শরীরে চর্বির দলা 'লাইপোমা', আসলে কী
চামড়ার নিচে পরিপক্ক চর্বি কোষ জমে তৈরি হওয়া নরম পিণ্ড বা দলাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় লাইপোমা বলা হয়। এটি মানবদেহের সবচেয়ে সাধারণ 'বিনাইন' বা ক্ষতিকর নয় এমন এক ধরনের টিউমার। লাইপোমা থেকে ক্যান্সারে রূপ নেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
লাইপোমা ও ক্যান্সারের ঝুঁকি
ক্যান্সার আতঙ্ক: লাইপোমা নিজে ক্ষতিকারক নয়, তবে লিপোসারকোমা নামের এক ধরনের ক্যান্সারযুক্ত (ম্যালিগন্যান্ট) টিউমার দেখতে হুবহু লাইপোমার মতোই হয়ে থাকে।
সতর্কতামূলক লক্ষণ: চর্বির পিণ্ডটি যদি খুব দ্রুত আকারে বড় হতে থাকে, অতিরিক্ত শক্ত হয়ে যায়, আঙুলের চাপে না নড়ে এবং তীব্র ব্যথা সৃষ্টি করে, তবে তা লিপোসারকোমা হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে বায়োপসি বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
লাইপোমা চেনার উপায়
নমনীয়তা: আঙুল দিয়ে চাপ দিলে এটি চামড়ার নিচে সহজেই পিছলে যায় বা নড়াচড়া করে।
আকার ও স্থান: সাধারণত মটরদানার মতো ছোট থেকে শুরু করে কয়েক সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ঘাড়, কাঁধ, পিঠ, বাহু, পেট বা উরুতে এটি বেশি দেখা যায়।
উপসর্গহীন: প্রায় ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই লাইপোমা সম্পূর্ণ ব্যথাহীন হয়। তবে এটি কোনো স্নায়ুর (নার্ভ) ওপর চাপ সৃষ্টি করলে বা ভেতরে রক্তনালী বেশি থাকলে ব্যথা হতে পারে।
লাইপোমা কেন হয়?
সুনির্দিষ্ট কারণ অজানা থাকলেও গবেষকদের মতে প্রধান কারণগুলো হলো-
জেনেটিক মিউটেশন: পরিবারে কারো লাইপোমা থাকলে অন্যদের হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আঘাতজনিত কারণ: শরীরের কোনো স্থানে সরাসরি আঘাতের ফলে চর্বি কোষের মৃত্যু ঘটলে সেখানে পরবর্তীতে লাইপোমা তৈরি হতে পারে।
অন্যান্য ঝুঁকি: স্থূলতা, অতিরিক্ত মদ্যপান, লিভারের রোগ এবং রক্তে চিনির মাত্রা বা গ্লুকোজ ইনটলারেন্সের সাথে এর যোগসূত্র রয়েছে। সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা গেলেও যেকোনো বয়সে হতে পারে।
কখন চিকিৎসা বা অপারেশন প্রয়োজন?
সাধারণত লাইপোমা কোনো শারীরিক সমস্যা তৈরি না করলে কোনো ধরনের ওষুধ বা সার্জারির প্রয়োজন পড়ে না। তবে নিচের পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা এটি অপসারণের পরামর্শ দেন।
দ্রুত আকারে বড় হতে থাকলে বা তীব্র ব্যথা হলে। জয়েন্ট বা মাংসপেশির স্বাভাবিক নড়াচড়ায় বাধা সৃষ্টি করলে। বসা বা শোবার স্থানে চাপ পড়ে অস্বস্তি তৈরি হলে কিংবা সৌন্দর্যহানি ঘটলে।
অপসারণ পদ্ধতি
লাইপোমা স্থায়ীভাবে নির্মূল করার প্রধান ও কার্যকর উপায় হলো ছোট অস্ত্রোপচার বা 'সার্জিক্যাল এক্সিশন'। এছাড়া বিশেষ ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ইনজেকশন বা লিপোসাকশনের মাধ্যমেও এর আকার সংকুচিত করা যায়। সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা লাইপোমার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।