একাদশে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল রাত ৮টায়

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম
আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
Main News Image

২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার পর প্রকাশ করা হবে। নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে শিক্ষার্থীরা ফলাফল দেখতে পারবেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। তিনি জানান, বুধবার রাত ৮টার পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে।

ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চায়নের জন্য ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।

শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। এরপর ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম চলবে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয়। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। এবার একাদশে ভর্তির জন্য কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে না। অনলাইন আবেদনের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২২০ টাকা।

ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীরা গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত তাদের পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ পেয়েছেন।

এবার বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগও রাখা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—যেকোনো বিভাগে আবেদন করতে পারবেন। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজ বিভাগের পাশাপাশি পরস্পরের বিভাগেও আবেদন করতে পারবেন। সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও সংগীত বিভাগে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

ভর্তির ক্ষেত্রে কলেজগুলোর ৯৩ শতাংশ আসন সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থায় কর্মরতদের সন্তানদের জন্য মোট ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। তবে এই কোটা ব্যবস্থা শুধু ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য।

সমান জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম নির্ধারণে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত মোট নম্বর বিবেচনা করা হবে। বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে এরপর নির্দিষ্ট বিজ্ঞান বিষয়গুলোর নম্বর এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ক্ষেত্রে ইংরেজি, গণিত ও বাংলার নম্বর পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করা হবে।

এদিকে ভর্তির সময় কলেজভেদে সেশন চার্জ ও ভর্তি ফির সর্বোচ্চ সীমাও নির্ধারণ করে দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নন-এমপিও ও আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্যও মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রাথমিক নিশ্চায়নের সময় শিক্ষার্থীদের বোর্ডকে মোট ৩৪০ টাকা দিতে হবে। এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন, ক্রীড়া, বিএনসিসি, রোভার/রেঞ্জার, রেড ক্রিসেন্ট, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং শিক্ষক কল্যাণ ও অবসর সুবিধা ফি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, বোর্ডের অনুমতি ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী ভর্তি বা ছাড়পত্র (টিসি) ইস্যু করতে পারবে না। অনুমোদনহীন শাখা বা বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি বা এমপিওভুক্তি বাতিলের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।