শুভ জন্মদিন উত্তম!

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৮ এএম
Main News Image

অরুণ থেকে উত্তমকুমার হয়ে ওঠার পথটি মসৃণ ছিল না, তা ছিল আশা-হতাশার অজস্র চড়াই-উতরাইয়ে ভরা। স্বাধীনোত্তর যুগে নানা স্বপ্নভঙ্গে অভ্যস্ত বাঙালির কাছে তিনি কেবল এক আদর্শপুরুষ নন, বরং পরম আকাঙ্ক্ষিত এক রূপকথা ও ইচ্ছাপূরণের জীবন্ত প্রতীক। কিন্তু বাঙালির এই পরম প্রিয় স্বপ্নপুরুষের বিনোদন জগতের শুরুর দিনগুলো ছিল চরম ব্যর্থতা, বঞ্চনা ও অবহেলায় মোড়ানো। উত্তম কুমারের জন্মদিন আজ ৩ সেপ্টেম্বর। 

অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়ের রূপালী পর্দার সফর শুরু হয়েছিল ১৯৪৭ সালে। তখন তিনি কলেজের পড়া ছেড়ে সাধারণ এক চাকরিতে ঢোকার পাশাপাশি থিয়েটার, গানবাজনা ও হলিউডের ছবি দেখতে দেখতে অভিনয়ের প্রতি আকৃষ্ট হন। পরিচিত গণেশদার সূত্রে হিন্দি ছবি ‘মায়াডোর’-এ দৈনিক পাঁচ সিকে পারিশ্রমিকে বরযাত্রীর একটি ক্ষুদ্র এক্সট্রা চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ছবিটি কখনোই মুক্তি পায়নি।

পরের বছর, অর্থাৎ ১৯৪৮ সালে মুক্তি পায় তাঁর প্রথম বাংলা ছবি ‘দৃষ্টিদান’। রবীন্দ্রনাথের গল্প অবলম্বনে ও নীতিন বসুর পরিচালনায় এই ছবিতে তিনি নায়ক অসিতবরণের ছেলেবেলার চরিত্রে অভিনয় করেন। তবে ছবিটি বক্সঅফিসে ফ্লপ করে। শুধু তা-ই নয়, বিজ্ঞাপনে বা প্রচারপুস্তিকায় তাঁর নাম পর্যন্ত বাদ দেওয়া হয়। এমনকি ২৭ টাকা নির্ধারিত পারিশ্রমিকের অর্ধেক টাকা কমিশন হিসেবে চলে যাওয়ায় তাঁর হাতে আসে মাত্র সাড়ে তেরো টাকা।

‘দৃষ্টিদান’ ছবির প্রভাব পড়েছিল উত্তমের ব্যক্তিগত জীবনেও। সিনেমার আসার আগেই জেঠতুতো বোনের বান্ধবী গৌরীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গৌরী তাঁর ঠাকুরমার সঙ্গে ছবিটি দেখতে গিয়ে সরল মনে উত্তমকে পছন্দ করার কথা জানান এবং সম্পর্কের বিষয়টি ফাঁস করে দেন। এর ফলে গৌরীর পরিবার তাঁকে গৃহবন্দী করে ফেলে এবং উত্তমের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে অবশ্য সাহসে ভর করে উত্তম নিজেই গৌরীর বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যান।

১৯৪৮ থেকে ১৯৫১ সালের মধ্যে তাঁর অভিনীত পরপর ছ’-সাতটি ছবি বক্সঅফিসে মুখ থুবড়ে পড়লে স্টুডিও পাড়ায় তাঁর গায়ে তকমা সেটে যায় ‘ফ্লপ মাস্টার জেনারেল’। কিন্তু সমস্ত কটাক্ষ ও ব্যর্থতার মেঘ কেটে প্রথম আলোর মুখ দেখা যায় ১৯৫২ সালের ১১ এপ্রিল। নির্মল দে-র সাহসিকতায় ‘বসু পরিবার’ ছবিতে বড় ভাইয়ের চরিত্র পান তিনি। ছবিটি অসাধারণ সাফল্য পায় এবং উত্তমের অভিনয় দারুণভাবে প্রশংসিত হয়। দীর্ঘ চার বছরের ব্যর্থতার পর ‘বসু পরিবার’-এর মাধ্যমেই প্রথম সিনেমা রসিক বাঙালি পরিবারের ঘরে ঘরে পৌঁছে যান আজকের মহানায়ক উত্তমকুমার।