কাজী নজরুলের জয়গান

সংস্কৃতি, সাহিত্য ও বাংলাদেশ-রাশিয়া মেলবন্ধনের এক অনন্য সন্ধ্যা

হেরাল্ড প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৫ এএম
Main News Image

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, কবিতা, সঙ্গীত ও চিরন্তন সৃষ্টিকে স্মরণ করে ঢাকার রাশিয়ান হাউস এবং ভারতের কলকাতার ছায়ানটের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হলো এক বিশেষ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।

স্বাগত বক্তব্যে ঢাকার রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেকজান্দ্রা এ. খ্লেভনই কাজী নজরুল ইসলামকে একজন কালজয়ী কবি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাঁর সাহিত্য ধর্ম, শ্রেণি, ভাষা, ভূগোল ও সময়ের সীমা অতিক্রম করে স্বাধীনতা, সাম্য, প্রেম, মানবিকতা ও আশার সার্বজনীন বার্তা বহন করে। তিনি নজরুলের সাহিত্যজগতের সঙ্গে রুশ ও সোভিয়েত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের কথাও তুলে ধরেন। বিশেষ করে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, সাহস, সহমর্মিতা ও মানবমর্যাদার মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল কাজী নজরুল ইসলামের ওপর রুশ ও সোভিয়েত সাহিত্যের প্রভাব নিয়ে আলোচনা। একই সঙ্গে রাশিয়ান হাউসের রাশিয়ান ভাষা কোর্সের শিক্ষার্থীরা রাশিয়ান ভাষায় নজরুলের নির্বাচিত কবিতা আবৃত্তি করেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় কবির সাহিত্যকর্মকে একটি ভিন্ন ভাষা ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা হয়।

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার অব্যাহত সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত যোগাযোগের চিত্রও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট ইউনিভার্সিটি ও এমজিআইএমও বিশ্ববিদ্যালয়ের রুশ গ্র্যাজুয়েট, যারা বাংলা ভাষা শিখেছেন, তাঁদের ভিডিও পরিবেশনার পাশাপাশি রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবেশনাও অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।

সাংস্কৃতিক পর্বে পরিবেশিত হয় নজরুলসঙ্গীত, কবিতা ও নৃত্য। এর মধ্যে “মেঘের ডমরু ঘন বাজে” এবং “এই রাঙা মাটির পথে” গান দুটি বিশেষভাবে পরিবেশিত হয়। এছাড়া সেরোভ একাডেমি অব ফাইন আর্টসের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ছিল একটি দলগত নৃত্য।

ভারতের কলকাতার ছায়ানটের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক ভিডিও পরিবেশনায় কাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচিত কবিতা বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে “সমকালীন বিশ্বে কাজী নজরুল ইসলামের প্রাসঙ্গিকতা” শীর্ষক একটি বিশেষ আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়।

এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা বাংলাদেশের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে রাশিয়া ও ভারতের সাংস্কৃতিক সংযোগকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের সম্পর্ককে তুলে ধরে।