পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি: যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম
Main News Image

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ছবি : সংগৃহীত

আগামী শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য পাঠ্যবইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিবন্ধে বর্ণিত ঐতিহাসিক সময়ের একটি ডায়েরির ছবিও পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

এনসিটিবি জানিয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ বইয়ে নতুন অধ্যায় হিসেবে নিবন্ধটি স্থান পাচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা  বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে বাংলা সাহিত্য বইয়ে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে এনসিসিসি চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। যার যতটুকু অবদান, তা নিরপেক্ষভাবে পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৪ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এনসিসিসির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এনসিটিবির কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা জানান, নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ বইয়ের ২২ নম্বর গদ্যে নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। লেখক পরিচিতি অংশে জিয়াউর রহমানকে সাবেক রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ও ‘বীর উত্তম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিবন্ধের প্রারম্ভিক ব্যাখ্যায় ১৯৭২ সালে ‘দৈনিক বাংলা’য় প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ এবং ১৯৮০ সালে অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’কে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কৃতিত্ব নয়। স্বাধীনতার ইতিহাসে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান ও তাজউদ্দীন আহমেদসহ বিভিন্ন নেতার অবদান রয়েছে।

কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, নিবন্ধটিতে ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রামে সশস্ত্র প্রতিরোধের সূচনা, পাকিস্তানি বাহিনীর তৎপরতা, ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণা, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং সম্মুখসমরের বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরা হয়েছে।

নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন, জাতির সংকটময় মুহূর্তে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। ২৬ মার্চ ১৯৭১-এর প্রথম প্রহরে চট্টগ্রামে প্রতিরোধের সূচনা এবং পরবর্তী সময়ে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যদের সংগঠিত করার বর্ণনাও রয়েছে এতে।

এতে আরও বলা হয়েছে, ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারের সময় তিনি একটি এক্সারসাইজ খাতার পাতায় ঘোষণার বক্তব্য লিখেছিলেন। নিবন্ধে পটিয়ার পাহাড়ে মুক্তাঞ্চল গঠন ও পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম দিকের সম্মুখসমরের স্মৃতিও বর্ণিত হয়েছে।

শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা নিবন্ধটি পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধটির ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতার সংগ্রাম সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ বলেন, নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক জানান, এনসিসিসির সভায় নিবন্ধটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।