জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই শহীদদের পরিবার ও আহতদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওবায়দুল কাদের ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান, সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাজাপ্রাপ্ত এই সাত আসামির সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছে।
মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ থেকে জানা যায়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আন্দোলন দমনে দলীয় ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কঠোর অবস্থানের নির্দেশ দেন। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ইন্টারনেটের গতি ধীর করা, চট্টগ্রাম দখলের নির্দেশ দেওয়া এবং ১৯ জুলাই 'দেখামাত্র গুলি' করার নির্দেশ প্রদানের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়।
একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ওবায়দুল কাদেরের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে সহিংসতার প্ররোচনা দেন এবং ঢাকা ও মাদারীপুর এলাকায় ক্যাডার বাহিনীর মাধ্যমে সহিংসতা তদারকি করেন। এছাড়া তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী তকমা দিয়ে সশস্ত্র হামলা পরিচালনায় সহায়তা করেন এবং সরকারের সহিংসতা ও অবৈধ বলপ্রয়োগের খবর ঢাকতে একাধিক টেলিভিশনের সম্প্রচার জোরপূর্বক বন্ধ করে দেন।
অন্যদিকে, যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান দলীয় বাহিনীকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ মাঠে নেমে আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ দেন। ১৯ জুলাই মাইনুল হোসেন খান নিজে অস্ত্র হাতে নিয়ে মিরপুরে মহড়া দিয়ে একাধিক হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ভূমিকা পালন করেন। পাশাপাশি ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান অর্থ গ্রহণ ও সহিংসতার পরিকল্পনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানোর নির্দেশ ও তদারকি করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত সপ্তম রায়। দুটি ট্রাইব্যুনালের রায়ে এ পর্যন্ত ৬৮ আসামির সাজা হয়েছে, যার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।