ইনানী জাতীয় উদ্যানে মেঘলা চিতাসহ ২৩ প্রজাতির প্রাণীর সন্ধান

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২২ পিএম
Main News Image

কক্সবাজারের উপকূলীয় পাহাড় ঘেরা ইনানী জাতীয় উদ্যানে পরিচালিত এক সাম্প্রতিক গবেষণায় মেঘলা চিতা (ক্লাউডেড লেপার্ড), পশ্চিমের উল্লুক এবং এশিয়ান হাতিসহ ২৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর উপস্থিতি নথিভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টারের পরিচালক বিপন্ন পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র গবেষক বিপুল কৃষ্ণ দাসের পরিচালিত এই গবেষণায় বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য, উদ্ভিদ বৈচিত্র্য এবং সার্বিক বাস্তুতন্ত্রের বর্তমান অবস্থা উঠে এসেছে।

দুর্লভ বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি

সমগ্র উদ্যানকে ১১টি জোনে ভাগ করে ৩২টি স্থানে ক্যামেরা ট্র্যাপ, লাইন ট্রানসেক্ট, বিষ্ঠা ও পায়ের ছাপ (পাগমার্ক) বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রাণী শনাক্ত করা হয়েছে।

মেঘলা চিতা: আন্তর্জাতিকভাবে সংকটাপন্ন এবং বাংলাদেশে "মহাবিপন্ন" হিসেবে চিহ্নিত এই প্রাণীটি ইনানী উদ্যানে গবেষণার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো শনাক্ত হলো। ক্যামেরা ট্র্যাপে ৫টি এবং পরোক্ষ প্রমাণের মাধ্যমে ১৩টি ক্ষেত্রে এর উপস্থিত নিশ্চিত করা হয়।

অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রজাতি: গবেষণায় পাওয়া অন্যান্য প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে এশিয়ান হাতি, মায়া হরিণ, বনশূকর, পশ্চিমের উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, লাল বানর, বড় বাঘডাশ, মেছো বিড়াল, লেপার্ড ক্যাট, কাঁকড়াভুক বেজি, গন্ধগোকুল, সোনালি শিয়াল, মালয় শজারু, ইরাবতী কাঠবিড়ালি, লাল উড়ন্ত কাঠবিড়ালি এবং গেছো ছুঁচো।

বাস্তুতন্ত্র ও বনের গুরুত্ব

সাত হাজার ৮৫ হেক্টরের এই সংরক্ষিত উদ্যানে ৬৬ প্রজাতির গাছ শনাক্ত করা হয়েছে। প্রাকৃতিক বনাঞ্চল যেসব স্থানে অক্ষত রয়েছে, সেখানে প্রাণীর বৈচিত্র্য ও আধিক্য বেশি দেখা গেছে। এই বনাঞ্চলটি ভারত ও মিয়ানমারের বনের সাথে সংযোগ স্থাপনকারী একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াইল্ডলাইফ করিডোর হিসেবে কাজ করে।

জীববৈচিত্র্যের মূল হুমকি

গবেষণায় ইনানী বনাঞ্চলের ইকোসিস্টেমের ওপর একাধিক বড় ধরনের হুমকির কথা চিহ্নিত করা হয়েছে। আবাসস্থল ও করিডোর ধ্বংস: বনের মধ্য দিয়ে সড়ক নির্মাণের ফলে হাতিসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর চলাচলের পথ খণ্ডিত হচ্ছে।

জনসংখ্যার চাপ: স্থানীয় জনবসতি বৃদ্ধি এবং বিপুল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপস্থিতির ফলে বনের ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি হয়েছে।

অবৈধ দখল ও পাচার: পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি তৈরি, বন উজাড় করে চাষাবাদ, অবৈধ শিকার-পাচার এবং স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বন দখলের কারণে বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ মতামত ও সংরক্ষণ কৌশল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ফিরোজ জামান জানান, পর্যাপ্ত বাজেট ও জনবল সংকটের কারণে দেশের বহু সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ব্যবস্থাপনা সঠিক নিয়মে হচ্ছে না। প্রকৃতির ভারসাম্য ও খাদ্যচক্র স্বাভাবিক রাখতে বিরল ও বিপন্ন প্রজাতিগুলোকে দ্রুত সুরক্ষার আওতায় আনা জরুরি।

গবেষক বিপুল কৃষ্ণ দাসের মতে, বন্যপ্রাণীর পছন্দসই গাছগাছালি রোপণ এবং তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল গড়ে তোলার মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিগুলোর বংশবৃদ্ধি ও বিস্তার সম্ভব।