শুভশ্রীর জীবনে আরেকটি দেব আর নেই!

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
Main News Image

শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় ও দেব। ছবি: সংগৃহীত

বারো বছর সময়ের হিসেবে খুব বেশি না হলেও দু’জন মানুষের জীবনে অনেকটা বদলে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। এক সময় যে জুটি বাংলা ছবির পর্দায় দর্শকের উচ্ছ্বাসের প্রধান কারণ ছিল, সেই দেব ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় আবারও একসঙ্গে। দীর্ঘ ১২ বছরের ব্যবধানে বদলেছে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন, কাজের ধরন এবং পর্দার বাইরের সমীকরণ। ফলে ‘দেশু-৭’ (Desu 7)-এর সেটে প্রথমবার মুখোমুখি দাঁড়ানোর মুহূর্তটি খুব একটা সহজ বা অনায়াস ছিল না বলে স্বীকার করেছেন দু’জনেই। অভিনেতা দেব নাকি পরিচালক দেব, কাকে বেশি পছন্দ—এমন প্রশ্নে শুভশ্রীর স্পষ্ট উত্তর, ‘পরিচালক দেব।’ পরিচালক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে দেবের অভিজ্ঞতাও বেশ অন্যরকম; ক্যামেরার অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে কাজ করার পর অন্য পরিচালকদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা আরও বেড়েছে বলে জানান তিনি।

এই দীর্ঘ বিরতিতে দু’জনের মধ্যেই এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। দেবের মতে, শুভশ্রীর মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব ও পরিণতিবোধ (maturity) অনেক বেড়েছে। এই পরিণতিবোধ আগে থাকলে হয়তো তাঁদের বিচ্ছেদই হতো না বলে দেব মনে করেন। অন্যদিকে এত বছর পরেও দেবের মাটির কাছাকাছি থাকার মানসিকতা এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখার ক্ষমতা শুভশ্রীর সবচেয়ে বেশি পছন্দের। শ্যুটিংয়ের সময় একটি দৃশ্যে সামান্য আঙুল ছোঁয়ার মুহূর্ত নিয়েও দেবের মনে দ্বিধা থাকলেও, শুভশ্রীর স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের নতুন ভিত্তি তৈরি করে।

অতীতে আর কখনো একসঙ্গে কাজ না করার ধারণা থাকলেও দর্শকদের ভালোবাসা ও প্রাথনাই শেষ পর্যন্ত তাঁদের ফের এক ফ্রেমে এনে দাঁড় করিয়েছে। দেবের দৃষ্টিতে এই রিইউনিয়ন যদি হয় ‘ম্যানিফেস্টেশন’, তবে শুভশ্রীর কাছে তা ‘ভাগ্য ও নিয়তি’ (Destiny and fate)। এই নতুন যাত্রায় দুজনে নিজেদের মধ্যে একটি মজাদার চুক্তিও করেছেন—এখন থেকে তাঁরা আর ঝগড়া করবেন না এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় একে অপরকে ব্লক করবেন না। ফোনে ‘শুভশ্রীদি অ্যাক্টর’ নামটি বদলে দেব এখন শুধু ‘শুভ’ করে নিয়েছেন। তা নিয়ে রসিকতার ছলে শুভশ্রীর প্রশ্ন—‘তোমার জীবনে অন্য কোনও দেব নেই তো?’, আর তার উত্তরে শুভশ্রীর সোজাসাপটা উত্তর, ‘না।’

বারো বছরের দূরত্ব, জমে থাকা স্মৃতি আর নতুন করে তৈরি হওয়া বিশ্বাসের মেলবন্ধনেই তৈরি হচ্ছে তাঁদের নতুন রসায়ন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভালোবাসার ভাষা এবং সম্পর্কের রূপ পরিবর্তিত হলেও আবেগ যে ফুরিয়ে যায় না, বদলে যাওয়া সেই ভাষাতেই নতুন করে একে অপরকে খুঁজে পাওয়ার গল্প বলছে এই পুনর্মিলন।