১,২৭৬ কোটি টাকার প্রকল্প আর্থিক খাতের নিরাপত্তা ও ব্যাংক সংস্কারে

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৪ এএম
Main News Image

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে আরও স্থিতিশীল, বিশ্বমানের ও ঝুঁকি সহনশীল করে গড়ে তুলতে ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ (এফএসএসপি-২) শীর্ষক একটি বিস্তৃত কারিগরি সহায়তা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থায়ন ও অভ্যন্তরীণ কারিগরি আধুনিকায়নের মেলবন্ধনে গৃহীত পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংক মূল বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। প্রকল্পটির সিংহভাগ ব্যয় বা ১ হাজার ২৬১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) থেকে সহজ শর্তের বৈদেশিক অর্থায়ন হিসেবে পাওয়া যাবে এবং বাকি ১৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক তার নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেবে।

প্রকল্পটির অনুমোদন প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে পরিকল্পনা কমিশনে প্রাথমিক প্রস্তাব জমা পড়ার পর একই বছরের ২৩ নভেম্বর বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (এসপিইসি) পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে পর্যালোচনার আলোকেই চলতি ২০২৬ সালের মে মাসে সংশোধিত টিএপিপি পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়। কমিশন ইতিবাচক মূল্যায়নের পর প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে। বাংলাদেশ সচিবালয়ে একনেক সভায় একনেক চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

বিদ্যমান ব্যাংকিং ব্যবস্থায় উচ্চ খেলাপি ঋণ, অভ্যন্তরীণ সুশাসনের অভাব এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ঘাটতি দীর্ঘদিনের বড় চ্যালেঞ্জ। তদারকি প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত পুরোনো তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামো এবং সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার অভাবে সাইবার হামলা ও আন্তসীমান্ত আর্থিক অপরাধের মতো উদীয়মান ঝুঁকি মোকাবিলায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব সংকট আমানতকারীদের আস্থা হ্রাস করার পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিতেও অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত আগের এফএসএসপি প্রকল্পের সফলতার ধারাবাহিকতায় গ্রহণ করা এই দ্বিতীয় পর্যায়ের মূল উদ্দেশ্যই হলো দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের মাধ্যমে এই টেকসই ভিত্তি গড়ে তোলা।

কৌশলগত দিক থেকে প্রকল্পটি প্রধানত তিনটি উপাদানের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে—তদারকি সক্ষমতা ও ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন, আর্থিক খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা ও ব্যাংক পুনর্গঠনে সহায়তা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ। এর মধ্যে দ্বিতীয় উপাদানের অধীন ব্যাংক রেজল্যুশন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সুশাসন এবং আমানতকারীদের সুরক্ষা প্রদানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আমানত বিমা ট্রাস্ট ফান্ডের (ডিআইটিএফ) আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং অর্থ পরিশোধের সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে কোনো ব্যাংক সংকটে পড়লে গ্রাহকের স্বার্থ দ্রুত রক্ষা করা সম্ভব হয়।

প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নেই বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ ব্যয় করা হবে। ব্যাংক খাতের প্রযুক্তি অবকাঠামো পুনর্গঠনে আইসিটি সরঞ্জাম কেনাকাটায় ৭১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা, আধুনিক ব্যাংকিং ও তদারকি সফটওয়্যারের জন্য ৩৫৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং নিরাপদ ও সময়োপযোগী ডেটাবেজ গড়ে তুলতে ৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। এর বাইরে আইসিটি কেনাকাটা প্রক্রিয়ার সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ পরামর্শক সেবা নেওয়া হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকিং খাতের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক ও তদারকি নজরদারি আরও সুসংহত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।