শিশুর শারীরিক বিকাশ ও উচ্চতা বৃদ্ধি: সহায়ক চর্চা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১২ পিএম
Main News Image

শিশুর বয়স অনুযায়ী শারীরিক বিকাশ এবং ওজন ও উচ্চতার সঠিক ভারসাম্য বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের বয়স অনুপাতে উচ্চতা ও ওজন কম থাকে, আবার অনেক সময় ওজনের তুলনায় উচ্চতা বাড়ে না। শারীরিক বৃদ্ধির স্বাভাবিক মাপকাঠির সঙ্গে শিশুর বিকাশ মিলছে কি না, সেদিকে নজর রাখা প্রয়োজন।

উচ্চতা বৃদ্ধির বয়সসীমা

ছেলে ও মেয়েদের শরীরে উচ্চতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ও সময়সীমায় কিছুটা পার্থক্য থাকে।

ছেলেদের ক্ষেত্রে: সাধারণত ১৮ থেকে ২০ বছর বয়স পর্যন্ত উচ্চতা বাড়ে। বয়ঃসন্ধিকাল অর্থাৎ ১৩ থেকে ১৬ বছর বয়সে উচ্চতা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়।

মেয়েদের ক্ষেত্রে: সাধারণত ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত উচ্চতা বাড়ে। তবে প্রথম ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার পর থেকে বৃদ্ধির গতি ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং একপর্যায়ে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

উচ্চতা না বাড়ার সম্ভাব্য কারণ

বয়স বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত হারে শিশুর উচ্চতা না বাড়ার পেছনে বেশ কিছু শারীরিক ও জিনগত কারণ থাকতে পারে।

জিনগত প্রভাব: পারিবারিক বা বংশগত বৈশিষ্ট্যের কারণে উচ্চতা কম হতে পারে।

হরমোনের ঘাটতি: শরীরে গ্রোথ হরমোনের নিঃসরণ কম হলে স্বাভাবিক বিকাশ থমকে যায়।

পুষ্টির অভাব: খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি এবং জ়িঙ্কের অভাব থাকলে হাড়ের গঠন ও বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়।

দীর্ঘমেয়াদি রোগ: শৈশব থেকেই থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা কিডনির জটিলতা থাকলে উচ্চতা বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে।

উচ্চতা ও শারীরিক বৃদ্ধিতে বাবা-মায়ের করণীয়

সমস্যা যাই হোক না কেন, চিকিৎসকদের মতে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই সঠিক জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত করালে শিশুর বিকাশ ত্বরান্বিত হয়:

সুষম খাদ্যতালিকা: শিশুর প্রতিদিনের খাবারে হাড়ের গঠন ও হরমোন নিঃসরণে সহায়ক প্রয়োজনীয় উপাদান নিশ্চিত করতে হবে।

নিয়মিত শারীরিক কসরত: কেবল খাওয়াদাওয়াই নয়, শরীরকে সক্রিয় রাখতে এবং হাড় প্রসারিত করতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম ও যোগাসনের অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার।

উচ্চতা বৃদ্ধিতে কার্যকর কিছু ব্যায়াম ও যোগাসন

স্কিপিং (দড়ি লাফ): এক জায়গায় দাঁড়িয়ে নিয়মিত দড়ি লাফালে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং পায়ের 'কাফ মাসল'-এর ভালো ব্যায়াম হয়, যা উচ্চতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

ঊর্ধ্ব তাড়াসন: যোগা ম্যাটে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পায়ের পাতার মাঝে দুই ইঞ্চি ফাঁক রাখুন। দু'টি হাত মাথার ওপর তুলে আঙুলগুলো পরস্পরের সাথে পেঁচিয়ে ওপরের দিকে প্রসারিত করুন। এরপর গোড়ালি মাটি থেকে তুলে শুধু পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ান এবং ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড অবস্থানটি ধরে রাখুন।

বাটারফ্লাই পোজ়: মেঝেতে বসে দু'টি পায়ের পাতা সামনাসামনি জুড়ে দিন। দু'হাত দিয়ে পায়ের পাতা ধরে হাঁটু দুটোকে প্রজাপতির ডানার মতো ওপর-নিচ করুন। এটি ১০টি করে মোট ৩টি সেটে অনুশীলন করা উচিত। এতে পায়ের জোর বাড়ে এবং শিশুদের 'গ্রোথ পেইন' কম হয়।

শশঙ্গাসন: বজ্রাসনে বসে পিঠ সোজা রেখে শ্বাস নিতে নিতে দু'টি হাত মাথার ওপর তুলুন। এবার ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে সামনের দিকে ঝুঁকে কপাল মাটিতে ঠেকান এবং হাত দুটো প্রণামের ভঙ্গিতে সামনে প্রসারিত রাখুন। ৩০ সেকেন্ড এই অবস্থানে থাকার পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসুন।