ঘরের গাছ বাঁচবে যেভাবে

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
Main News Image

ঘরের কোণে বা বারান্দায় টব সাজিয়ে রাখলে পরিবেশ যেমন সতেজ হয়, তেমনই বাড়ে নন্দনকানন রূপ। তবে সঠিক নিয়ম না মেনে কেবল জল দিলেই গাছ বাঁচানো সম্ভব নয়। অসাবধানতাবশত কিছু ভুলের কারণে ইনডোর প্ল্যান্ট নিস্তেজ বা মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে।

অতিরিক্ত জল দেওয়া: গাছের ক্ষতির অন্যতম প্রধান কারণ প্রয়োজন না বুঝে ঘন ঘন জল দেওয়া। টবের মাটির উপরিভাগ শুকিয়ে গেলেও গভীরে আর্দ্রতা থেকে যেতে পারে। অতিরিক্ত জল মাটিতে জমে থাকলে শিকড়ে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না, ফলে শিকড় পচে যায় এবং পাতা হলুদ হয়ে গাছ মারা যায়। বিশেষ করে বর্ষাকালে আর্দ্রতা বেশি থাকায় জল দেওয়ার ব্যবধান বাড়ানো উচিত। টবের ২-৩ সেন্টিমিটার গভীরে আঙুল দিয়ে মাটি শুকিয়েছে কি না পরীক্ষা করে তবেই জল দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

ভুল আলো বা কড়া রোদ: আলো গাছের জন্য দরকারী হলেও প্রখর রোদ অনেক ইনডোর প্ল্যান্টের ক্ষতি করে। অধিকাংশ ঘরের গাছের সরাসরি রোদের বদলে উজ্জ্বল, পরোক্ষ আলো প্রয়োজন। প্রখর রোদে রাখলে পাতা পুড়ে যেতে পারে। ঘরের জানলার কাছে এমন জায়গা বেছে নেওয়া উচিত যেখানে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো আসে, কিন্তু সরাসরি তীব্র রোদ পড়ে না। পাতা অস্বাভাবিকভাবে আলোর দিকে হেলে পড়লে বা নতুন পাতা ছোট হতে থাকলে আলোর অবস্থান পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

খারাপ জল নিকাশি ব্যবস্থা: টবের নীচে যদি অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যাওয়ার ছিদ্র না থাকে, তবে জল জমে শিকড় পচে যাওয়া নিশ্চিত। গাছ বসানোর সময় টবের তলদেশে উপযুক্ত জল নিকাশির ব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত জরুরি, যাতে অতিরিক্ত জল সহজেই বেরিয়ে যেতে পারে।

সব গাছকে একইভাবে পরিচর্যা করা: সাকুলেন্ট, ফার্ন, মানিপ্ল্যান্ট কিংবা ফুলের গাছের জল, আলো ও মাটির চাহিদা এক নয়। এক গাছের পরিচর্যাবিধি অন্য গাছের ওপর প্রয়োগ করলে গাছের ক্ষতি হতে পারে। তাই নতুন গাছ বাড়িতে আনার পর তার প্রজাতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট চাহিদা জেনে নিয়ে যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।

পাতার ধুলোবালি পরিষ্কার না করা: ঘরের ভেতরে থাকায় গাছের পাতায় সহজেই ধুলোর আস্তরণ জমে। এতে পাতার স্বাভাবিক সালোকসংশ্লেষ ও শ্বাসকার্য ব্যাহত হয়। ফলে গাছ নিস্তেজ হয়ে পড়ে। নরম ও পরিষ্কার সুতি কাপড় দিয়ে নিয়মিত পাতার ওপর জমা ধুলো মুছে দেওয়া উচিত।

অতিরিক্ত সার প্রয়োগ: বেশি সার দিলে গাছ দ্রুত বাড়বে—এই ভ্রান্ত ধারণার কারণে অনেকেই অতিরিক্ত সার ব্যবহার করেন। সারের অতিরিক্ত খনিজ মাটিতে জমা হয়ে শিকড় পুড়িয়ে দেয় এবং পাতার ধার বাদামি হয়ে শুকিয়ে যায়। যে কোনো সার ব্যবহারের আগে তার মাত্রা ও নির্দেশিকা সঠিকভাবে মেনে চলা উচিত।

রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ অবহেলা করা: পাতায় আঠালো ভাব, মাকড়সার জাল, পাতায় দাগ কিংবা ছোট পোকার উপদ্রব দেখা দিলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। এসব সংক্রমণ খুব দ্রুত এক গাছ থেকে অন্য গাছে ছড়িয়ে পড়ে। নিয়মিত গাছের কাণ্ড, পাতা ও মাটি পরীক্ষা করা এবং কোনো গাছ আক্রান্ত হলে সেটিকে অবিলম্বে অন্য সুস্থ গাছ থেকে আলাদা করে প্রতিষেধক বা কীটনাশক প্রয়োগ করা জরুরি।