দেশের সব খাতের ভাগ্য বদলায়, বদলায় না শুধু গণমাধ্যমকর্মীদের জীবন
দেশ বদলাচ্ছে। অর্থনীতি বদলাচ্ছে। প্রযুক্তি বদলাচ্ছে। কর্মক্ষেত্রের ধরন বদলাচ্ছে। মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, চাহিদা বাড়ছে, প্রত্যাশা বাড়ছে। রাষ্ট্রও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন খাতে সংস্কার ও পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে সম্প্রতি অনুমোদন পেয়েছে নবম জাতীয় বেতন স্কেল। নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মীদের বেতন-ভাতা ও আর্থিক সুবিধা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ রাষ্ট্র বুঝেছে- সময় বদলেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, তাই মানুষের আয় ও আর্থিক নিরাপত্তার কাঠামোকেও সময়োপযোগী করতে হবে।
কিন্তু এই পরিবর্তনের ভেতর দাঁড়িয়ে একটি প্রশ্ন ক্রমেই বড় হয়ে উঠছে- দেশের সব খাতের ভাগ্য বদলায়, বদলায় না শুধু গণমাধ্যমকর্মীদের জীবন কেন?
এই প্রশ্নটি কোনো শ্রেণিবিশেষের বাড়তি সুবিধা চাওয়ার প্রশ্ন নয়। এটি ন্যায্যতার প্রশ্ন। এটি পেশাগত মর্যাদার প্রশ্ন। সর্বোপরি, এটি একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের ভবিষ্যতের প্রশ্ন।
একজন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন নির্ধারণের জন্য রাষ্ট্রের একটি সুসংগঠিত কাঠামো রয়েছে। বেতন কমিশন গঠিত হয়, গ্রেড নির্ধারিত হয়, ইনক্রিমেন্ট থাকে, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা সুবিধা থাকে, উৎসব ভাতা থাকে, অবসরকালীন সুবিধা থাকে। সময়ের সঙ্গে যদি বিদ্যমান কাঠামো অপ্রতুল হয়ে পড়ে, রাষ্ট্র নতুন করে সেটি পর্যালোচনা করে। সম্প্রতি নবম জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদনের মধ্য দিয়ে তারই আরেকটি উদাহরণ আমরা দেখলাম।
কিন্তু একজন সাংবাদিকের জীবন যেন অন্য এক বাস্তবতার নাম।
তিনি একই বাজারে বাজার করেন, একই মূল্যস্ফীতির মুখোমুখি হন, একই বাড়িভাড়া দেন, সন্তানের পড়াশোনা ও পরিবারের চিকিৎসার ব্যয় বহন করেন। অথচ তাঁর বেতন অনেক সময় সেই জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অনেক গণমাধ্যমকর্মীর বেতন নিয়মিত নয়; কারও বেতন মাসের পর মাস বকেয়া থাকে। কোথাও নিয়োগপত্র নেই, কোথাও নির্ধারিত ইনক্রিমেন্ট নেই, কোথাও চিকিৎসা সুবিধা নেই, কোথাও উৎসব ভাতার নিশ্চয়তা নেই। এমনকি দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করার পরও অনেক কর্মী জানেন না- এই পেশা থেকে অবসর নেওয়ার পর তাঁর ভবিষ্যৎ কী।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, যে সাংবাদিক প্রতিদিন মানুষের অধিকার, শ্রমিকের মজুরি, সরকারি কর্মচারীর বেতন, মূল্যস্ফীতি, দ্রব্যমূল্য, বৈষম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন, সেই সাংবাদিক নিজেই অনেক সময় ন্যায্য বেতন ও নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত থাকেন।
এ এক অদ্ভুত বৈপরীত্য।
গণমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগের পাশাপাশি স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রের ভুল ধরিয়ে দেওয়া, ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় আনা, জনগণের কথা তুলে ধরা এবং সত্যকে মানুষের সামনে হাজির করার দায়িত্ব সাংবাদিকের। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনকারী মানুষটির জীবন যদি আর্থিক অনিশ্চয়তায় আবদ্ধ থাকে, তাহলে তাঁর পেশাগত স্বাধীনতাও স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
একজন সাংবাদিকের আর্থিক নিরাপত্তা তাই কেবল তাঁর ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয় নয়; এটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
যে সাংবাদিক মাসের শেষে বেতন পাবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন; যাঁকে বাড়িভাড়া দিতে গিয়ে ধার করতে হয়; সন্তানের স্কুলের বেতন দিতে গিয়ে হিসাব মেলাতে হয়; চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয়-তাঁর ওপর যদি একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের চাপ থাকে, তাহলে তাঁর পেশাগত স্বাধীনতা কতটা শক্ত থাকবে?
এখানেই বেতন ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতার সম্পর্কটি সবচেয়ে স্পষ্ট।
সদ্য সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনও বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন। গত ১৬ জুলাই সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি বলেছিলেন, নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন ছাড়া সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, সম্মানজনক বেতন-ভাতা ও চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্যে আরও উঠে এসেছিল- সাংবাদিকদের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করা না গেলে পেশাদার সাংবাদিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং অপসাংবাদিকতার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি।
কারণ সাংবাদিকের বেতন বাড়ানোর প্রশ্নকে যদি শুধু ‘সাংবাদিকদের দাবি’ হিসেবে দেখা হয়, তাহলে বিষয়টির মূল জায়গাটি আড়ালে থেকে যায়। এটি আসলে গণমাধ্যমের মান ও স্বাধীনতা রক্ষার প্রশ্ন।
একজন সাংবাদিক যখন তাঁর পেশাকে জীবনের প্রধান অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করবেন, তখন তাঁকে সেই পেশা থেকে সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগও দিতে হবে। তা না হলে মেধাবী তরুণরা এই পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। যারা আসবেন, তারাও হয়তো কয়েক বছর পর অন্য পেশায় চলে যাবেন। ফলে গণমাধ্যম হারাবে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও মেধা।
ইতোমধ্যেই সাংবাদিকতার কর্মপরিবেশে একটি বড় পরিবর্তন এসেছে। একসময় একজন রিপোর্টারের প্রধান দায়িত্ব ছিল সংবাদ সংগ্রহ ও লেখা। এখন একজন সাংবাদিককে একই সঙ্গে ওয়েবসাইটের জন্য সংবাদ লিখতে হয়, ভিডিও করতে হয়, লাইভে যেতে হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট তৈরি করতে হয়, কখনো ক্যামেরা পরিচালনা করতে হয়, কখনো ভিডিও সম্পাদনাও করতে হয়। বিশেষ করে অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতায় একজন কর্মীর দায়িত্বের পরিধি কয়েক গুণ বেড়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো- কাজের পরিধি কি সেই অনুপাতে বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়েছে?
দুঃখজনকভাবে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে উত্তরটি ‘না’।
অনেক প্রতিষ্ঠান একজন কর্মীর ওপর একাধিক দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে কর্মীসংখ্যা কম রাখছে। একজন রিপোর্টার একই সঙ্গে রিপোর্টার, ভিডিও জার্নালিস্ট, কনটেন্ট রাইটার এবং সোশ্যাল মিডিয়া কর্মী হিসেবে কাজ করছেন। একজন ডেস্ককর্মীকে একই সঙ্গে সংবাদ সম্পাদনা, শিরোনাম লেখা, ছবি নির্বাচন, ওয়েব আপলোড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট তৈরির দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। কিন্তু বেতন নির্ধারণের সময় সেই অতিরিক্ত দায়িত্বের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না।
এভাবে একটি পেশাকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করা সম্ভব নয়।
অবশ্যই গণমাধ্যম মালিকদের বাস্তব সমস্যাও আছে। সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন বাজার সংকুচিত হয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বিজ্ঞাপনের বড় অংশ দখল করেছে, কাগজ ও মুদ্রণ ব্যয় বেড়েছে, অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত প্রযুক্তির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। একটি প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখার জন্য মালিকদের বিনিয়োগ, ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তেরও গুরুত্ব রয়েছে।
কিন্তু সেই বাস্তবতার অজুহাতে সাংবাদিকের শ্রমের মূল্য কমিয়ে দেওয়া যায় না।
একটি প্রতিষ্ঠান যদি লাভ করে, মালিক লাভের অংশ পাবেন- এটি স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিষ্ঠান লোকসানে থাকলে তার পুরো বোঝা কর্মীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ন্যায়সংগত নয়। বেতন আটকে রেখে, নিয়োগপত্র না দিয়ে কিংবা বছরের পর বছর একই বেতনে কর্মীকে কাজ করিয়ে কোনো গণমাধ্যম শিল্পকে শক্তিশালী করা যায় না।
এখানে সরকারেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।
নবম জাতীয় বেতন স্কেল রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক কাঠামো নিয়ে একটি বড় সিদ্ধান্ত। একই সময়ে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্যও একটি বাস্তবসম্মত, যুগোপযোগী ও কার্যকর বেতন কাঠামো নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। শুধু ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করলেই হবে না; তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থাও থাকতে হবে।
বর্তমান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থের সামনে তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। সদ্য সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন যে জায়গা থেকে সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড, সম্মানজনক বেতন ও পেশাগত নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন, বর্তমান মন্ত্রণালয় সেই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে পারে।
প্রয়োজন হলে গণমাধ্যম মালিক, সাংবাদিক সংগঠন, সম্পাদক, শ্রম বিশেষজ্ঞ ও সরকারের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কার্যকর সংলাপ হতে পারে। সেখানে শুধু বেতন নয়, নিয়োগপত্র, কর্মঘণ্টা, ছুটি, ইনক্রিমেন্ট, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা সুবিধা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, চাকরি হারালে ক্ষতিপূরণ, বেতন বকেয়া রাখার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং অবসরকালীন নিরাপত্তা- সবকিছু নিয়েই একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে।
তবে সাংবাদিকদেরও নিজেদের দায়িত্ব ভুলে গেলে চলবে না।
ন্যায্য বেতনের দাবি যেমন যৌক্তিক, তেমনি সাংবাদিকতার মানও উন্নত করতে হবে। তথ্য যাচাই, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, পেশাগত নৈতিকতা এবং দায়িত্বশীলতা বাড়াতে হবে। কারণ একটি শক্তিশালী ওয়েজ বোর্ড তখনই অর্থবহ হবে, যখন তার সঙ্গে শক্তিশালী ও পেশাদার সাংবাদিকতাও নিশ্চিত হবে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, ভালো সাংবাদিকতা এবং ভালো কর্মপরিবেশ একে অপরের প্রতিপক্ষ নয়; বরং একে অপরের পরিপূরক।
একজন সাংবাদিককে যদি সম্মানজনক বেতন দেওয়া হয়, তাঁর চাকরির নিরাপত্তা থাকে, পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি কিছুটা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন, তাহলে তাঁর কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা আশা করা সম্ভব। আর্থিকভাবে নিরাপদ সাংবাদিক অন্যায় নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করার সাহসও তুলনামূলকভাবে বেশি পান। ফলে সাংবাদিকের আর্থিক নিরাপত্তা শেষ পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকেই শক্তিশালী করে।
তাই এখন প্রশ্নটি শুধু ‘সাংবাদিকদের বেতন কত হবে’- এখানে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।
প্রশ্ন হওয়া উচিত- আমরা কেমন গণমাধ্যম চাই?
আমরা কি এমন গণমাধ্যম চাই, যেখানে সাংবাদিক সারাদিন মানুষের অধিকার নিয়ে লিখবেন, অথচ রাতে নিজের পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন? আমরা কি এমন সাংবাদিকতা চাই, যেখানে একজন তরুণ মেধাবী সাংবাদিক কয়েক বছর কাজ করার পর পেশা ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাবেন শুধু জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে না পারার কারণে? আমরা কি এমন চতুর্থ স্তম্ভ চাই, যার ভিতের মানুষগুলোই আর্থিকভাবে অনিরাপদ?
নিশ্চয়ই না।
দেশের উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন সেই উন্নয়নের আলো সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনকে স্পর্শ করবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি সময়ের সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো পান, শ্রমিকরা যদি ন্যায্য মজুরির জন্য নতুন কাঠামো পান, বিভিন্ন পেশাজীবী যদি তাঁদের পেশাগত অধিকার নিয়ে সংগঠিত হতে পারেন, তাহলে গণমাধ্যমকর্মীরা কেন পিছিয়ে থাকবেন?
👉 যে সাংবাদিক অন্যের বেতন বাড়ার খবর লেখেন, তাঁর নিজের বেতন বাড়ার খবর কে লিখবে?
👉 যে সাংবাদিক সাধারণ মানুষের কষ্টের গল্প তুলে ধরেন, তাঁর নিজের কষ্টের গল্প কে বলবে?
👉 যে সাংবাদিক রাষ্ট্রের কাছে জবাবদিহি চান, তাঁর নিজের কর্মস্থলের জবাবদিহি নিশ্চিত করবে কে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখন আর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
নবম জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদনের পর তাই সাংবাদিক সমাজের প্রত্যাশা খুব স্বাভাবিক- সরকারি কর্মচারীদের জন্য যদি নবম পে-স্কেল হতে পারে, তাহলে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্যও একটি যুগোপযোগী নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ কেন হবে না?
এটি কোনো বিশেষ সুবিধার দাবি নয়। এটি একটি পেশার মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকার।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শুধু সম্পাদকীয় নীতিমালা দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় না। স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয় এমন একটি কর্মপরিবেশের মাধ্যমে, যেখানে সাংবাদিক সত্য প্রকাশের বিনিময়ে তাঁর চাকরি, পরিবার ও ভবিষ্যৎ হারানোর ভয় নিয়ে প্রতিদিন কাজ করবেন না।
দেশের সব খাত যদি সময়ের সঙ্গে এগিয়ে যায়, অথচ গণমাধ্যমকর্মীরা একই জায়গায় পড়ে থাকেন, তাহলে সেই উন্নয়ন পূর্ণাঙ্গ নয়।
তাই সময় এসেছে শুধু নতুন সড়ক, নতুন সেতু কিংবা নতুন বেতন স্কেলের হিসাব না করে সেই মানুষগুলোর জীবনমানের হিসাব করার, যারা প্রতিদিন দেশের মানুষের কাছে সত্য পৌঁছে দেন।
কারণ গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করতে হলে শুধু আধুনিক প্রযুক্তি, বড় অফিস কিংবা কোটি টাকার বিনিয়োগ যথেষ্ট নয়।
গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার সাংবাদিক। আর সেই সাংবাদিকের জীবন যদি অনিরাপদ থাকে, তাহলে কোনো গণমাধ্যমই সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী হতে পারে না।
সুতরাং আজকের দাবি একটাই- সবার ভাগ্যের উন্নয়নের এই সময়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ভাগ্যটাও বদলাক। তাঁদের কলমে শুধু অন্যের পরিবর্তনের গল্প নয়, একদিন লেখা হোক নিজেদের জীবন বদলে যাওয়ার গল্পও।
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।