সীমানা পেরিয়ে দুই বাংলার হৃদয়ে ‘বন্ধু তোমার ভালোবাসার ধরন ভালা না’
বিরহ ও প্রেমে প্রতারণার গান যুগে যুগে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও অশান্ত সময়ের মাঝেও সংগীতই বারবার মানুষকে এক সুতোয় বাঁধার অনন্য হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। গত বছর বাংলাদেশের তরুণ শিল্পী ঈশান মজুমদারের গাওয়া ‘নিঠুর মনোহর’ দুই বাংলার মানুষের মন জয় করেছিল। ঠিক একইভাবে এবার দুই বাংলার সীমানা পেরিয়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে দোলা দিচ্ছে আরও একটি আবেগঘন গান—‘বন্ধু তোমার ভালোবাসার ধরণ ভালা না’।
বর্তমানে ওপার বাংলা যেমন উত্তাল পরিস্থিতি পার করছে, তেমনি এপার বাংলায় আরজি কর কাণ্ডের পর মানুষের মন প্রতিবাদ ও বেদনায় ভারাক্রান্ত। এমনই এক স্পর্শকাতর সময়ে এই লোকসংগীতটি ওপারের গণ্ডি পেরিয়ে এপারেও সমান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
জনপ্রিয়তার শীর্ষে গানের কথা ও সুর
গানটির সুনির্দিষ্ট গীতিকার ও সুরকারের নাম স্পষ্ট না পাওয়া গেলেও তরুণ শিল্পী শিমুল হাসানের কণ্ঠে গানটি নেটদুনিয়ায় দারুণ সাড়া ফেলেছে। গানটির কয়েকটি জনপ্রিয় লাইন হচ্ছে-
“একজন মানুষ হইয়া তুমি কয়জনারে বিলাও মন/
উপর উপর দেখাও ভালা ভিতরে কয়লার মতন..
মুখের ভালোবাসা দেখাও, অন্তুর দিয়া বাসোনা
বন্ধু তোমার ভালো বাসার ধরন ভালা না। ...”
বিশুদ্ধ পল্লীগীতির সুর তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে গভীর দোলা দিয়েছে। বন্ধুদের ঘরোয়া আড্ডা থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে এই গান এখন পশ্চিমবঙ্গের ঘরে ঘরেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিরহের গানের চিরন্তন আবেদন পাওয়া গেছে এই গানে। প্রেমে আঘাত পাওয়ার কান্না ও বিরহের আবেগ কালজয়ী গানের ভিত্তি তৈরি করেছে। ১৯৭৭-এর হিন্দি সিনেমা 'হাম কিসিসে কম নেহি': সচিন ভৌমিকের লেখা ও রাহুল দেব বর্মনের সুরের এই ছবিতে মোহাম্মদ রফির কণ্ঠে ‘ক্যায়া হুয়া তেরা ওয়াদা’ গানটি অমর হয়ে রয়েছে।
নব্বইয়ের দশকের 'আশিকি': কুমার শানুর কণ্ঠে ‘আব তেরে বিন জি লেঙ্গে হাম, জহর জিন্দেগি কা পি লেঙ্গে হাম’ গানটি তরুণদের মুখে মুখে ফিরত। ‘আশিকি’র গানে যেমন বিষপানের প্রসঙ্গ ছিল, এই লোকসংগীতেও ফুটে উঠেছে একই আরতি—"বিষ খাওইয়া মারো আমার তিলে তিলে মাইরো না"।
শিমুল হাসান ও কষ্টের গানের প্রভাব
বাংলাদেশে বিরহের গানের শিল্পী হিসেবে ইতিপূর্বে খ্যাতি কুড়িয়েছেন শিমুল হাসান। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ‘শিমুল হাসানের কষ্টের গান’ লিখে শ্রোতাদের অনুসন্ধানের প্রবণতাই প্রমাণ করে তিনি কতটা জনপ্রিয়।
দুই বাংলার অস্থির ও মনখারাপের সময়ে এই চিরন্তন আবেগের পল্লীগীতিটি সুরের ভেলায় মানুষকে মানসিকভাবে কাছাকাছি এনে দাঁড় করিয়েছে।