শরীরকে কষ্ট না দিয়ে সুস্থ উপায়ে মেদ ঝরান
জীবনযাপনে কিছু স্বাস্থ্যকর বদল এনে, নিয়ম মেনে ডায়েট এবং অল্প শরীরচর্চা করলে ৩০ দিনে ৩ থেকে ৪ কেজি ওজন কমানো যায়। ডায়েট থেকে কার্বোহাইড্রেট একেবারে বাদ দিয়ে বা কেবল তরল খাবার খেয়ে দ্রুত ওজন কমলেও তা মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়, কারণ এতে শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না এবং দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
ওজন ঝরাতে পুষ্টিবিদ পম্পিতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি নির্দিষ্ট সময়ের খাদ্যতালিকা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। সকাল ৬টায় এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ জলে অর্ধেক লেবুর রস ও আধ চামচ মধু মিশিয়ে দিন শুরু করা যেতে পারে। সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ ছোট বাটিতে অঙ্কুরিত ছোলা ও মুগ খাওয়া যেতে পারে। ৮টার জলখাবারে দু’টি ছোট রুটি ও সবজির সঙ্গে সেদ্ধ ডিম, অথবা ওটস, দুধ, ফল ও খেজুরের স্মুদি কিংবা চিঁড়ের পোলাও রাখা যায়। বেলা ১১টা নাগাদ একটি গোটা ফল যেমন আপেল, পেয়ারা বা মুসাম্বি খাওয়া ভালো। দুপুরের খাবারে (দুপুর ১টা) এক কাপ ভাত বা একটি রুটির সঙ্গে এক বাটি সবজি, ৫০ থেকে ৭০ গ্রাম মাছ বা মাংস এবং স্যালাড রাখা যেতে পারে। দুপুরের খাবারের আধ ঘণ্টা পর এক কাপ টক দই খাওয়া স্বাস্থ্যকর। বিকেল ৫টায় শুকনো খোলায় ভাজা চিঁড়ে ও ছোলা অথবা ভুট্টার স্যালাড এবং রাতের খাবার ৭টা ৩০ মিনিটের মধ্যে ডাল, সবজি ও মাছ অথবা এক বড় বাটি চিকেন স্ট্যু দিয়ে সেরে ফেলা উচিত।
অন্যদিকে, পুষ্টিবিদ মঞ্জিরা সান্যাল সুস্থ ভাবে ওজন কমাতে খাবারের বৈচিত্র্য ও জীবনযাত্রার নিয়মানুবর্তিতার ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, রোজকার খাবারে মরসুমি শাকসবজি, ফল ও পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখা উচিত, কারণ খাবারে বৈচিত্র আনলে শরীরের বিপাকহার বাড়ে এবং মেদ দ্রুত ঝরে। চটজলদি ওজন কমাতে সাপ্লিমেন্ট নির্ভর না হয়ে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং বিকেলের খিদে সামলাতে বাইরের ভাজাভুজির বদলে বাড়ি থেকে স্বাস্থ্যকর খাবার সঙ্গে রাখা প্রয়োজন। এছাড়া শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন দূর করতে দিনে অন্তত ৩ লিটার জল, ডাবের জল বা দইয়ের ঘোল পান করতে হবে এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। ডায়েটের পাশাপাশি নিয়ম করে হালকা ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম মেদ কমানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে।