কে বেশি সুন্দর? নারী না পুরুষ?
কে বেশি সুন্দর?নারী না পুরুষ?এটাই আজকের শিরোনাম।
একজন পুরুষের ফ্যাশন সেন্স কেমন, তা ফরমাল আউটফিট হোক কিংবা ক্যাজুয়াল আউটফিট হোক, তার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করে একজন পুরুষের ব্যক্তিত্ব। ক্যারিয়ার-সচেতন ও বুদ্ধিদীপ্ত পুরুষকেই বেশির ভাগ নারী পছন্দ করেন। নারী-পুরুষের ভূমিকা যাই হোক না কেন, আজকাল পুরুষেরাও স্বেচ্ছায় ঘরের দায়িত্ব পালন করছেন। পৃথিবীজুড়ে স্বামী-স্ত্রী ও নারী-পুরুষের সম্পর্কের সংজ্ঞা নতুন নতুন মোড় নিচ্ছে।
নারী কখন সুন্দর দেখায়? যখন তাঁর আচরণ নারীর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। সুন্দর মুখমণ্ডল ছাড়া নারীর সৌন্দর্য অনেক সময় অপূর্ণ মনে হতে পারে। কোনো নারী বা পুরুষ কেবল সৌন্দর্য দেখে প্রেমে পড়েন না; তবে হ্যাঁ, প্রথমে একটি ইতিবাচক ধারণা বা ইমপ্রেশন তৈরি হতে পারে।
সুন্দর ও সৌন্দর্য সবার কাছেই আকর্ষণীয়। এখন প্রশ্ন হলো, কে বেশি সুন্দর? নারী, না পুরুষ? কেউ কেউ বলে থাকেন, পৃথিবীর সকল প্রাণীর মধ্যে পুরুষ প্রাণীরাই বেশি সুন্দর। তাহলে নারী প্রাণীদের এত সুন্দর লাগে কেন? এমন প্রশ্ন তো আসতেই পারে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, পুরুষ হলো সঙ্গীর সৌন্দর্যের অনুরাগী, আর নারীর সৌন্দর্য হলো তাঁর প্রভাব। অবশ্য কিছু পুরুষ নিজেকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে চান না, এটাও সত্য।
এখন প্রশ্ন হলো, ঈশ্বর তাহলে নারীদের এত সুন্দর করে পাঠালেন কেন? উত্তর অতি সহজ। সৌন্দর্যের কারণে পুরুষ যেন নারীর প্রতি আকৃষ্ট হয়। আবার এর উল্টো ভাবনাও হতে পারে। কেউ বলতে পারেন, ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টির মধ্যে নারীদেরই বেশি ভালোবাসেন। যদিও এখানেও পক্ষপাতের একটি প্রশ্ন থেকে যায়।
আর আমি বলি, নারীর সৌন্দর্য কেবল তাঁর রূপে নয়; আকর্ষণেও নারীরা শ্রেষ্ঠতর। তা না হলে কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কেন লিখলেন, "বাসস্টপে দেখা হলো তিন মিনিট"? কিংবা জীবনানন্দ দাশ কেন সৃষ্টি করলেন "বনলতা সেন"?
নারী রূপে, গুণে ও আকর্ষণে পুরুষের মনে গেঁথে যাওয়া এক স্বপ্ন। মোনালিসার হাসি আজও সেই রহস্যময়তার যথার্থ প্রতীক। নারীর মুখের গড়ন, নাক, ঠোঁট ও ললাটের বিন্যাস অনেকের চোখে সৌন্দর্যের বিশেষ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। সৌন্দর্য ও আকর্ষণের বিচারে নারীকে অনেকেই অধিক সুন্দর বলে মনে করেন।
নারীর গড়ন, ত্বকের বৈশিষ্ট্য ও হাসি তাঁর সৌন্দর্যের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। রূপগত বৈশিষ্ট্যের কারণে নারীরা এখনও অনেকের দৃষ্টিতে এগিয়ে। কোমল অঙ্গ, উন্নত বক্ষ, হরিণের মতো টানটান চোখ এবং ডিম্বাকার মুখমণ্ডল, গোলাকার শারীরিক গঠন ইত্যাদি কারণে নারীকে সৌন্দর্যের নিরাপদ আশ্রয় ভাবা যেতেই পারে।
তবে এশিয়ার নারীদের সৌন্দর্য যেভাবে প্রতিফলিত হয়, পাশ্চাত্যের নারীদের ক্ষেত্রে তা অনেক সময় ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়। এছাড়া পৃথিবীর বিভিন্ন সমাজে নারীর সৌন্দর্যের মানদণ্ড প্রায়ই পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা নির্ধারিত হয়েছে। প্রসাধন ও সৌন্দর্যচর্চার বহু উপকরণও পুরুষদের উদ্ভাবিত।
এত কিছুর পরও কেশর ফুলিয়ে যখন সিংহ গর্জন করে, তখন সিংহীর সৌন্দর্য ম্লান হয়ে যায়। নৃত্যরত ময়ূরের নাচের সামনে ময়ূরীকেও অনেক সময় তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় মনে হয়। দুটি শালিককে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ঝুঁটিওয়ালা পুরুষ শালিকটিকেই বেশি সুন্দর লাগে। দুটি হরিণের মধ্যে শিংওয়ালা পুরুষ হরিণটিকেই অধিক আকর্ষণীয় মনে হয়।
পুরুষ প্রকৃতিগতভাবেই সুন্দর, অথচ সে নিজেই অনেক সময় তা উপলব্ধি করে না। ফলে নিজের রূপ ভুলে সে নারীর রূপে মুগ্ধ হয়। তবে এটাও সত্য যে নারীর সম্মোহনী শক্তি প্রবল, যা পুরুষ সহজে উপেক্ষা করতে পারে না।
সবশেষে আমার ব্যক্তিগত মত হলো, সৌন্দর্য কোনো একক বৈশিষ্ট্যের বিষয় নয়। আকর্ষণ, ব্যক্তিত্ব, আচরণ, বুদ্ধিমত্তা ও উপস্থিতি, সব মিলিয়েই একজন মানুষ সুন্দর হয়ে ওঠেন। তবুও যদি প্রশ্ন করা হয়, রূপ ও আকর্ষণের বিচারে কে বেশি সুন্দর, তবে আমার উত্তর হবে: নারী।