বন্ধ স্টিল মিল থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি: কর্ণফুলী ইপিজেড সাফল্যগাথা
দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (কর্ণফুলী ইপিজেড) সাফল্যের দুই দশক পূর্ণ করেছে। ২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই ইপিজেড উদ্বোধন করেছিলেন। ২০০৭ সালের নভেম্বরে পাওলো ফুটওয়্যার (বিডি) লি.-এর মাধ্যমে শুরু হওয়া রপ্তানি যাত্রা ২০২৬ সালের আগস্ট শেষে দাঁড়িয়েছে ১৪,১৫৬.৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে (১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি)।
ঐতিহাসিক পটভূমি: বন্ধ কারখানা থেকে নতুন রূপান্তর
চিটাগং স্টিল মিলসের বিলুপ্তি: চট্টগ্রাম শহর থেকে ১০ কিমি দূরে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত চিটাগং স্টিল মিলস লি. ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে লোকসান ও ব্যবস্থাপনার সংকটে ১৯৯৮ সালে ৮০ কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ সাপেক্ষে লে-অফ এবং ১৯৯৯ সালের ৭ জুলাই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
ইপিজেড প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত: তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর আবেদনের প্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিলুপ্ত স্টিল মিলের জায়গায় ইপিজেড স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন।
জমি হস্তান্তর: ২০০৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি (৭৪ একর) ও ২০ ডিসেম্বর (১৪৮.৪২ একর)—এই দুই ধাপে সম্পূর্ণ জমি বেপজার নিকট হস্তান্তর করা হয়।
বিনিয়োগ ও অবকাঠামো
বিনিয়োগের অর্জন: ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ১.৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের দিয়ে শুরু হলেও ২০২৬ সালের আগস্ট শেষে ইপিজেডটিতে মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৭৮৭.৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
দেশি-বিদেশি অংশগ্রহণ: চীন, তাইওয়ান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা, জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি দেশের বিনিয়োগকারী এখানে রয়েছে।
বর্তমান সক্ষমতা: মোট ২৫৮টি শিল্পপ্লট (প্রতিটি ২ হাজার বর্গমিটার) এবং ৪৯,৭৯৮ বর্গমিটারের ৫টি স্ট্যান্ডার্ড ফ্যাক্টরি ভবনের পুরোটাই বরাদ্দ হয়ে গেছে।
চালু কারখানা: বর্তমানে মোট ৪০টি কারখানা চালু রয়েছে (২৯টি শতভাগ বিদেশি, ৩টি যৌথ ও ৮টি দেশীয়)। আরও ৫টি কারখানা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
পণ্য বৈচিত্র্য ও কর্মসংস্থান
গার্মেন্টস পণ্যের বাইরে কর্ণফুলী ইপিজেড থেকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের জন্য তাঁবু ও ক্যাম্পিং সামগ্রী, বাইসাইকেল, চামড়াজাত পণ্য, ফার্নিচার, ব্যাগ, আন্ডারগার্মেন্টস এবং ফ্যাশন ও সেফটি শু রপ্তানি করা হচ্ছে। স্টিল মিল বন্ধ হয়ে কর্মহীন হওয়া পতেঙ্গা এলাকায় এই ইপিজেডের মাধ্যমে বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার শ্রমিকের প্রত্যক্ষ এবং আরও ১ লাখ মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।