‘সন্তানেরা বেছে নেবে পছন্দের পেশা’
টেনিস কোর্টে রাজত্ব করা দুই কিংবদন্তি—আন্দ্রে আগাসি ও স্টেফি গ্রাফ। একজন জিতেছেন ৮টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম, অন্যজন ২২টি। খেলার জগতে অসামান্য সাফল্য অর্জন করলেও নিজেদের সন্তানদের ওপর সফলতার কোনো চাপ চাপিয়ে দেননি এই তারকা দম্পতি। র্যাকেটের লড়াই থেকে দূরে রেখে সন্তানদের নিজেদের পছন্দমতো পথ বেছে নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন তাঁরা।
আগাসি ও স্টেফির দুই সন্তান—ছেলে জাডেন আগাসি এবং মেয়ে জ্যাজ় এলিস। টেনিস তারকা বাবা-মায়ের সন্তান হলেও তারা বেছে নিয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ক্ষেত্র। জাডেন পেশাদার টেনিস ছেড়ে মেতেছেন বেসবলে, আর জ্যাজ়ের আগ্রহ নাচ-গান ও ঘোড়ায় চড়ায়। সন্তানরা যাতে জোরপূর্বক কোনো পেশায় না গিয়ে নিজেদের ইচ্ছেমতো স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, সেই সুযোগই তৈরি করে দিয়েছেন এই দম্পতি।
এই ভিন্ন ধারার অভিভাবকত্বের পেছনে রয়েছে আগাসি ও স্টেফির নিজেদের শৈশবের কঠিন অভিজ্ঞতা। ছোটবেলা থেকেই টেনিসে অসাধারণ পারদর্শিতার কারণে উভয়ের ওপরই ছিল পরিবার ও সমাজের প্রত্যাশার প্রচণ্ড চাপ। ফলে আর দশটা সাধারণ শিশুর মতো হেসেখেলে শৈশব উপভোগ করা তাঁদের হয়ে ওঠেনি; র্যাকেট আর প্রতিযোগিতার কঠোর নিয়মকানুনই ছিল তাঁদের সঙ্গী। নিজেদের জীবনের সেই দমবন্ধ করা অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, সন্তানদের কখনো এমন মনস্তাত্ত্বিক চাপের মধ্যে ঠেলে দেবেন না।
জাডেন ও জ্যাজ়ের কাছে আগাসি এবং স্টেফি কেবলই ভালোবাসার বাবা-মা, কোনো কঠোর টেনিস কোচ নন। নাম, যশ কিংবা ট্রফি জেতার বাধ্যবাধকতার চেয়ে সন্তানদের মানসিক সুস্থতা ও আত্মতৃপ্তিই তাঁদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকত্বের আসল উদ্দেশ্য নিজের অসম্পূর্ণ স্বপ্ন সন্তানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে তাদের পছন্দের পথে স্বাধীনভাবে এগিয়ে যেতে সাহায্য করা—এই ধারণাতেই এক অনন্য দৃষ্টান্ত গড়েছেন বিশ্বজয়ী এই জুটি।