‘মনে হচ্ছিল আর বাঁচব না...’: ক্যান্সার জয়ের গল্প মনীষা কৈরালার
বলিউড অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা। ছবি: সংগৃহীত
ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির সঙ্গে লড়াই করার অভিজ্ঞতা কেবল শারীরিক যন্ত্রণার নয়, তা মানসিক দিক থেকেও চরম অনিশ্চয়তা ও একাকিত্বের। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যান্সার জয়ের কঠিন দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এই মানসিক লড়াইয়ের ভয়াবহতার কথা প্রকাশ করেছেন বলিউড অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা। একই সঙ্গে ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা চলাকালীন কাউন্সেলিং ও থেরাপির গুরুত্ব নিয়ে আলোকপাত করেছেন চিকিৎসকেরা।
মরণব্যাধি জয় ও অন্ধকার দিনগুলোর স্মৃতি
২০১২ সালে ফোর্থ স্টেজ (Stage IV) ওভারিয়ান ক্যান্সারে আক্রান্ত হন মনীষা কৈরালা। ১১ ঘণ্টার দীর্ঘ জটিল অস্ত্রোপচার এবং একাধিক কেমোথেরাপির ধকল সহ্য করে ২০১৩ সালে তিনি ক্যান্সারকে পরাজিত করেন।
সম্প্রতি 'ব্রুট ইন্ডিয়া'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই অন্ধকাচ্ছন্ন দিনগুলোর কথা স্মরণ করে মনীষা বলেন, “যেদিন আমাকে বলা হয় আমার ক্যান্সার হয়েছে, সেই রাতটি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ ও একাকী রাত। চারপাশে কেবলই অন্ধকার। মনে হচ্ছিল, আমি হয়তো আর বাঁচব না।” তিনি জানান, ক্যান্সার চিকিৎসার সময়ে একজন রোগী ভেতরে ভেতরে কতটা অসহায় ও একাকী বোধ করেন, তা তিনি নিজে গভীরভাবে অনুভব করেছেন।
মানসিক স্বাস্থ্য ও থেরাপির গুরুত্ব
মনীষার এই অভিজ্ঞতার সপক্ষে বিশেষজ্ঞ অঙ্কোলজিস্টদের মতে, ক্যান্সার কেবল একটি শারীরিক ব্যাধি নয়—এটি রোগী ও তাঁদের পরিবারের জন্য ভয়, অনিশ্চয়তা এবং গভীর মানসিক চ্যালেঞ্জের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী কাউন্সেলিং ও থেরাপির প্রয়োজনীয়তা: শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি রোগী ও তাঁদের পরিবারের মানসিক সুস্থতার জন্য কাউন্সেলিং আবশ্যক। উদ্বেগ হ্রাস ও সুস্থতার সম্ভাবনা: সঠিক থেরাপির মাধ্যমে ৯০ শতাংশেরও বেশি রোগীর উদ্বেগ ও অবসাদ কমানো সম্ভব। সার্ভাইভাল রেট বৃদ্ধি: মানসিকভাবে সুদৃঢ় থাকলে তা রোগীর শারীরিক সুস্থতা অর্জন এবং জীবন রক্ষার সম্ভাবনা (সার্ভাইভাল রেট) বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়।