বাংলাদেশে ১০,০০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন: সম্ভাবনা ও বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ এএম
Main News Image

বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০,০০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৫,৫০০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক (রুফটপ) এবং ৪,৫০০ মেগাওয়াট ভূমিভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ। সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহিত করতে গ্রাহকের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনার ঘোষণা দেওয়া হলেও পরিকল্পনাটি ঘিরে একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুতের প্রধান বাধা

প্রতি কিলোওয়াট সোলারের জন্য ৭০ বর্গফুট জায়গা লাগে। বহুতল ভবনে যৌথ মালিকানা এবং সীমিত ছাদের জায়গার কারণে নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে বিক্রি করা কঠিন।

ব্যাংক ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করলে উৎপাদন খরচ দাঁড়ায় প্রতি ইউনিটে ১৩-১৪ টাকা। ফলে সাড়ে ১০ টাকায় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিক্রি করা ছোট ও মাঝারি গ্রাহকদের জন্য লাভজনক নয়।

উৎপাদন ও বিনিয়োগের হিসাব

সোলার প্যানেল বসাতে কিলোওয়াট প্রতি খরচ ৪০-৫০ হাজার টাকা। ব্যাটারি ছাড়া ৩ কিলোওয়াটের একটি প্যানেল বসাতে খরচ ১.৫ থেকে ১.৬৫ লাখ টাকা। ব্যাকআপের জন্য ব্যাটারিসহ স্থাপন করতে খরচ দাঁড়ায় ২.৭৫ থেকে ৩ লাখ টাকা।

পোশাক খাতের সম্ভাবনা ও অর্থায়ন সংকট

সিপিডির (CPD) সমীক্ষা অনুযায়ী, পোশাক কারখানার ছাদ ব্যবহার করে প্রায় ১,৭৬৮ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, যার জন্য প্রায় ২,২০০ কোটি টাকার (১৮৮ মিলিয়ন ডলার) বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন।

বিদেশি ক্রেতাদের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের শর্ত থাকলেও কারখানাগুলোর জন্য মূল বাধা হলো সহজ শর্তে ঋণ বা অনুদানের অভাব।

সৌর বিদ্যুৎ সম্প্রসারণে ৫টি মূল করণীয়

১. স্বল্প সুদে ঋণ: সর্বোচ্চ ৫% সুদে প্রকল্প ব্যয়ের ৭০% পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেওয়া।

২. প্রি-ফাইন্যান্সিং ব্যবস্থা: রিফাইনান্সিংয়ের বদলে প্রি-ফাইন্যান্সিং পদ্ধতি চালু করা।

৩. বিশেষ তহবিল: সৌর খাতে বিনিয়োগ সহজ করতে ডেডিকেটেড স্পেশাল ফান্ড গঠন করা।

৪. বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা: দেশীয় ব্যাংকগুলো যাতে এই খাতে অতিরিক্ত সুদ আরোপ করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।

৫. ট্যারিফ কাঠামো ও শুল্ক ছাড়: নেট বিলিংয়ের পরিবর্তে 'ফিড-ইন ট্যারিফ' ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সোলার পণ্যের ওপর থেকে সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহার করা।

বিনিয়োগ, জাতীয় গ্রিড ও অন্যান্য চ্যালেঞ্জ

পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৭ বিলিয়ন (৭০০ কোটি) ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন, যা কেবল দেশীয় ব্যাংকগুলোর পক্ষে অর্থায়ন করা অসম্ভব।

অতীতে বেশ কিছু প্রকল্প বাতিলের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, যা নতুন বিনিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধক।

বর্তমান জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা অনুযায়ী ১০ শতাংশের বেশি ছাদভিত্তিক বিদ্যুৎ গ্রিডে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই স্মার্ট গ্রিড গড়ে তোলা জরুরি।

দক্ষ টেকনিশিয়ান ও প্রকৌশলীর অভাব এবং ভূমিভিত্তিক সোলারের জন্য কৃষি জমি রক্ষা করে জায়গা নির্বাচন করাও অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।