ভারতে কেন বাংলাদেশের পাট পাচার করার অভিযোগ
বাংলাদেশ থেকে ভারতে কাঁচা পাট পাচারের অভিযোগের নেপথ্যে রয়েছে দুই দেশের বাজারের মূল্যের ব্যাপক পার্থক্য, উত্তরাঞ্চলের পাটের বিশেষ গুণাগুণ এবং বৈধপথে কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা।
বাজারমূল্যের ফারাক ও ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য
বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে (যেমন কুড়িগ্রামের যাত্রাপুর হাটে) প্রতি মণ কাঁচা পাট বিক্রি হচ্ছে ৪,০০০ থেকে ৪,৪০০ টাকায়। অথচ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এই পাটের দাম প্রতি মণে ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা। এই সুযোগে ফড়িয়া বা মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষকদের কাছ থেকে স্থানীয় বাজারের চেয়ে সামান্য বেশি দামে পাট কিনে গোপনে ভারতে পাচার করছে।
উত্তরাঞ্চলের পাটের বিশেষ চাহিদা
দেশে মোট উৎপাদিত পাটের প্রায় ৩০ শতাংশ ফরিদপুরে উৎপন্ন হলেও উত্তরাঞ্চলের পাটের আঁশ তুলনামূলকভাবে বেশি শক্ত ও টেকসই। ভারতের পাটকলগুলোতে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পাটজাত পণ্য তৈরির জন্য এই শক্ত আঁশের চাহিদা খুব বেশি।
রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা ও চোরাপথ
ভারত সরকার স্থলবন্দর দিয়ে কিছু পাটপণ্য আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করার পর বাংলাদেশ সরকারও কাঁচা পাট রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর ফলে আগে যেখানে বছরে ৫-৬ লাখ বেল কাঁচা পাট বৈধভাবে ভারতে যেত, তা এখন সম্পূর্ণ বন্ধ। বৈধ বাণিজ্য বন্ধ থাকায় ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে চোরাচালানের প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
দেশীয় অর্থনীতি ও শিল্পে প্রভাব
রপ্তানি ধস: ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সাড়ে ৮ লাখ বেলের বেশি কাঁচা পাট রপ্তানি হলেও নিষেধাজ্ঞা ও কড়াকড়ির কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে মাত্র ৮৩ হাজার বেলে নেমে এসেছে।
পাট পাচারের ফলে সীমান্ত এলাকার স্থানীয় বাজারে পাটের সরবরাহ কমে গেছে। অন্যদিকে খুলনা, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর ও উত্তরবঙ্গের প্রায় ৪০টি জুট প্রেস হাউস বন্ধ হয়ে শ্রমিকরা কাজ হারিয়েছেন।
প্রশাসনের ভূমিকা
পাট অধিদপ্তরের আবেদনের প্রেক্ষিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে। লালমনিরহাটের আদিতমারী ও পাটগ্রাম সীমান্তসহ একাধিক স্থানে পাচারকালে পাট জব্দ করা হয়েছে। সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে বর্তমানে পাচারের হার আগের চেয়ে কিছুটা কমলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।