পদত্যাগের আগেই অপসারণের সিদ্ধান্ত: সায়মা ওয়াজেদকে ঘিরে WHO-র নাটকের অন্তরালে কী?

সহিদুল আলম স্বপন,
জেনেভা, সুইজারল্যান্ড
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
Main News Image

অভিযোগ, তদন্ত, বেতনহীন ছুটি ও রাজনৈতিক বিতর্কের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ; কিন্তু এক দিনের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া দুটি সিদ্ধান্ত বদলে দিয়েছে পুরো গল্প।

কোনো কোনো পদত্যাগকে কেবল পদত্যাগ বলে ব্যাখ্যা করা যায় না।

বিশেষ করে যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জাতিসংঘ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক নেতৃত্বের পদে অধিষ্ঠিত থাকেন এবং পদত্যাগের ঠিক আগের দিন তাঁকে অপসারণের সুপারিশ করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদের পদত্যাগ ঠিক এমনই একটি ঘটনা।

৯ সেপ্টেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। কিন্তু তার ঠিক একদিন আগে, ৮ সেপ্টেম্বর, WHO-র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কমিটি তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের একাধিক সূত্রের দাবি, তাঁর আনুষ্ঠানিক অপসারণের প্রক্রিয়ার প্রস্তুতিও তখন চলছিল।

ফলে ঘটনাটিকে শুধুই “স্বেচ্ছায় পদত্যাগ” হিসেবে ব্যাখ্যা করা কঠিন।

আবার এটাও সত্য যে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত করা হয়নি। তিনি নিজেই পদত্যাগ করেছেন।

তবে প্রশ্নটি থেকেই যায়: সম্ভাব্য অপসারণের মুখোমুখি হয়েই কি তিনি পদত্যাগের পথ বেছে নিয়েছিলেন?

এই প্রশ্নের উত্তর শুধু একজন ব্যক্তির ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি, WHO-র প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ভবিষ্যতে এই গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক পদে বাংলাদেশের অবস্থান।

উত্থান থেকে সংকট

সায়মা ওয়াজেদ ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি WHO South-East Asia Regional Director হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

এই পদে নির্বাচিত হওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হয়েছিল। ১১টি দেশ ও প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষের স্বাস্থ্যনীতি, প্রস্তুতি ও আঞ্চলিক সমন্বয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ ছিল তাঁর হাতে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সদস্যরাষ্ট্রগুলো তাঁকে মনোনীত করে এবং WHO Executive Board তাঁর নিয়োগ অনুমোদন করে।

দায়িত্ব গ্রহণের সময় এটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক উপস্থিতি ও স্বাস্থ্য কূটনীতির একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন বলে বিবেচিত হয়েছিল।

কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যেতে শুরু করে।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর, বিশেষত শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, সায়মা ওয়াজেদের পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

শেখ হাসিনার কন্যা হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে ছিলেন না। কিন্তু রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তনের পর সেই পরিচয় তাঁর আন্তর্জাতিক অবস্থানকেও প্রভাবিত করতে শুরু করে।

তদন্ত, ছুটি ও অনিশ্চয়তা

২০২৫ সালে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত ও মামলা কার্যক্রম শুরু করলে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়।

পরবর্তীতে WHO তাঁকে বেতনবিহীন প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায়।

ফলে এক অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি হয়।

তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আঞ্চলিক পরিচালক ছিলেন, কিন্তু কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন না। দীর্ঘ সময় ধরে বেতন পাচ্ছিলেন না। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তও চলছিল।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে এ ধরনের অবস্থান বিরল।

WHO-এর দাবি, পুরো প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠানের নিয়মকানুন ও প্রশাসনিক বিধি অনুসারেই পরিচালিত হয়েছে।

অন্যদিকে সায়মা ওয়াজেদের বক্তব্য একেবারেই ভিন্ন।

তাঁর অভিযোগ, তাঁকে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং এমন একটি অবস্থার মধ্যে রাখা হয়েছিল যেখানে নির্বাচিত আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। পদত্যাগপত্রে তিনি আর্থিক সংকট এবং WHO নেতৃত্বের প্রতি আস্থা হারানোর কথাও উল্লেখ করেন।

এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের মধ্যেই তৈরি হয় বিতর্কের মূল কেন্দ্রে থাকা প্রশ্নটি: প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল?

অভিযোগ বনাম প্রমাণ

সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো ছিল গুরুতর।

এর মধ্যে ছিল বিদেশ সফরসংক্রান্ত আর্থিক অনিয়ম, একাডেমিক যোগ্যতা উপস্থাপন নিয়ে বিতর্ক এবং বাংলাদেশে জমি অধিগ্রহণ সম্পর্কিত অভিযোগ।

তবে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে মনে রাখা জরুরি: অভিযোগ এবং প্রমাণিত অপরাধ এক জিনিস নয়।

সায়মা ওয়াজেদ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

চীন সফরসংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে তিনি প্রশাসনিক ত্রুটি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। একাডেমিক পরিচয়ের ক্ষেত্রে তিনি দাবি করেছেন যে সংশ্লিষ্ট তথ্য WHO নেতৃত্বের কাছে গোপন ছিল না। জমি অধিগ্রহণ সম্পর্কেও তিনি আইনি বৈধতার যুক্তি তুলে ধরেছেন।

অতএব বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে সবচেয়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতামূলক অবস্থান হলো এই যে, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত হয়েছে এবং তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। এসব অভিযোগ আদালত বা স্বতন্ত্র বিচারিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

রাজনৈতিক পরিচয় কি পেশাগত পরিচয়কে ছাপিয়ে গেল?

সায়মা ওয়াজেদের পেশাগত পরিচয় একেবারে অনুপস্থিত ছিল না।

তিনি দীর্ঘদিন অটিজম ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেছেন। WHO-র বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিত মুখ হিসেবেই প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলেন।

তবু তাঁর ক্ষেত্রে আরেকটি পরিচয় সব সময় সমান্তরালে ছিল—তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা।

ফলে তাঁর নিয়োগ ঘিরে শুরু থেকেই একটি প্রশ্ন বিদ্যমান ছিল: তিনি কি মূলত তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়েছিলেন, নাকি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানও সেখানে ভূমিকা রেখেছিল?

এই প্রশ্নের সহজ উত্তর নেই।

তবে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে শুধু যোগ্যতা নয়, স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার ধারণাও গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তবতা হলো, রাজনৈতিক পরিচয় যত বেশি আলোচিত হয়, ব্যক্তিগত যোগ্যতার মূল্যায়ন তত বেশি বিতর্কিত হয়ে ওঠে।

সায়মা ওয়াজেদের ঘটনাও সেই বাস্তবতার একটি উদাহরণ।

২৪ ঘণ্টায় বদলে গেল সবকিছু

ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি ঘটে ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর।

৮ সেপ্টেম্বর WHO দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কমিটি তাঁকে অপসারণের সুপারিশ করে।

পরদিন তিনি পদত্যাগ করেন।

মাত্র এক দিনের এই ব্যবধান পুরো ঘটনাটির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তাৎপর্য বদলে দিয়েছে।

কারণ এখানে দুটি বিষয় একসঙ্গে সত্য।

প্রথমত, তিনি নিজেই পদত্যাগ করেছেন।

দ্বিতীয়ত, তাঁর বিরুদ্ধে অপসারণের প্রক্রিয়াও সক্রিয় ছিল।

ফলে ঘটনাটির সবচেয়ে নির্ভুল বর্ণনা সম্ভবত এটিই: সম্ভাব্য অপসারণের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই সায়মা ওয়াজেদ পদত্যাগ করেছেন।

WHO-রও জবাবদিহি আছে

যদি কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তাহলে তদন্ত করা স্বাভাবিক এবং প্রয়োজনীয়।

কিন্তু একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে।

প্রশ্নগুলো তাই এখনো গুরুত্বপূর্ণ:

সায়মাকে দীর্ঘ সময় দায়িত্বের বাইরে রাখার ভিত্তি কী ছিল?

তদন্তের নির্দিষ্ট ফলাফল কী?

তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কতটা সুযোগ দেওয়া হয়েছিল?

অপসারণের সুপারিশের পেছনে আনুষ্ঠানিক যুক্তি কী ছিল?

এবং তাঁর দাবি অনুযায়ী, তাঁকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়ে থাকলে সেই অভিযোগের স্বাধীন মূল্যায়ন হয়েছে কি?

এসব প্রশ্নের উত্তর শুধু একজন কর্মকর্তার ভবিষ্যতের জন্য নয়, বরং WHO-র নিজস্ব বিশ্বাসযোগ্যতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের সামনে নতুন বাস্তবতা

সায়মা ওয়াজেদের বিদায়ের ফলে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের অবস্থান হারিয়েছে।

তবে এটিকে স্থায়ী পরাজয় বলার এখনও সময় আসেনি।

বরং এটি বাংলাদেশের জন্য একটি পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ।

আগামীতে WHO-র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক পদে আবারও বাংলাদেশ প্রার্থী দিতে চাইলে এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে প্রার্থী নির্বাচনের মানদণ্ড।

প্রার্থীর থাকতে হবে শক্তিশালী পেশাগত রেকর্ড, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য প্রশাসনে অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকার সক্ষমতা।

শুধু ‘বাংলাদেশের প্রার্থী’ হওয়া যথেষ্ট হবে না।

প্রয়োজন হবে এমন একজন বাংলাদেশি, যিনি সমগ্র অঞ্চলের কাছে গ্রহণযোগ্য।

আঞ্চলিক বাস্তবতা ও ভারতের ভূমিকা

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্যে ভারতের গুরুত্ব উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

অর্থনীতি, জনসংখ্যা, স্বাস্থ্য অবকাঠামো এবং কূটনৈতিক প্রভাবের কারণে WHO অঞ্চলের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র ভারত।

ফলে ভবিষ্যৎ নির্বাচন কেবল ঢাকার অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের বিষয় হবে না।

বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ঐকমত্য তৈরির কূটনীতি চালাতে হবে এবং এমন প্রার্থী খুঁজতে হবে যিনি বৃহত্তর আস্থা অর্জন করতে পারেন।

এখানে আবেগের চেয়ে বাস্তবতা গুরুত্বপূর্ণ।

এটি কি বাংলাদেশের পরাজয়?

আংশিকভাবে, হ্যাঁ।

কারণ বাংলাদেশ যে পদটি অর্জন করেছিল, সেটি পূর্ণ মেয়াদ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেনি।

কিন্তু একই সঙ্গে এটি একটি শিক্ষা।

আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কোনো পদ অর্জন করাই শেষ কথা নয়; সেখানে বিশ্বাসযোগ্যতা, জবাবদিহি ও গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সায়মা ওয়াজেদের ঘটনা তাই বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।

রাজনৈতিক পরিচয় কখনোই যোগ্যতার বিকল্প হতে পারে না।

আবার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্যও বলা যায় না।

দুই ক্ষেত্রেই মানদণ্ড হওয়া উচিত একই: যোগ্যতা, স্বচ্ছতা, সততা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা।

উপসংহার: পরীক্ষার শুরু এখন

সায়মা ওয়াজেদের অধ্যায় শেষ হয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশের জন্য প্রকৃত পরীক্ষা এখন শুরু।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে একটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে: আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশ কি ব্যক্তি-কেন্দ্রিক প্রতিনিধিত্ব চায়, নাকি প্রতিষ্ঠান ও পেশাগত সক্ষমতাকেই অগ্রাধিকার দিতে চায়?

WHO-র পরবর্তী আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচন সেই প্রশ্নের উত্তর অনেকটাই প্রকাশ করবে।

ঢাকা যদি এমন একজন প্রার্থীকে সামনে আনতে পারে, যাঁর পরিচয় তাঁর পারিবারিক বা রাজনৈতিক সংযোগে নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পেশাগত যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত, তাহলে বর্তমান সংকট ভবিষ্যতের সুযোগে পরিণত হতে পারে।

কারণ শেষ পর্যন্ত এটি শুধু সায়মা ওয়াজেদের গল্প নয়।

এটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

আর সেই পরীক্ষার ফল নির্ধারণ করবে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরবর্তী সাফল্যের পথ কতটা শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে।