সাভারে এসবির পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা
ঢাকার সাভারে গাড়ির পার্কিং কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিবাদের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের (এসবি) এক সদস্য নিহত হয়েছেন। হামলায় নিহতের ছোট ছেলেও গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১ দিকে সাভারের আমিনবাজার বরদেশি এলাকার মদিনা হাউজিং সংলগ্ন স্থানে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত পুলিশ সদস্যের নাম আলতাব হোসেন। তিনি পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) ঢাকা মালিবাগ জোনে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, মদিনা হাউজিং এলাকায় গাড়ি রাখা নিয়ে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কয়েকজন মাদকাসক্তের তর্কবিতর্ক হচ্ছিল। বিষয়টি দেখে পুলিশ সদস্য আলতাব হোসেন সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা তার ওপর চড়াও হয় এবং অতর্কিত এলোপাতাড়ি পেটাতে শুরু করে।
বাবার ওপর হামলা হতে দেখে তাকে উদ্ধার করতে ছোট ছেলে আরিফুল ইসলাম এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাকেও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলাকারীরা মূলত আলতাব হোসেনের মাথা ও বুক লক্ষ্য করে উপরিউপরি আঘাত চালায়।
হাসপাতালে নেওয়া ও আহতের অবস্থা
হামলার পর স্থানীয়দের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলতাব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তার ছোট ছেলে আরিফুল বর্তমানে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবার ও স্বজনদের ক্ষোভ
নিহতের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, হামলাকারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলের একটি ফ্যাক্টরির ভেতরে ঢুকে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করে। তারা বাবা ও ভাইকে উদ্দেশ্য করে হামলা চালায় এবং মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করে। হামলাকারীদের দলে এলাকার বিভিন্ন বেকার, অটোরিকশাচালক ও ভবঘুরে প্রকৃতির লোক ছিল।
নিহতের ভাগ্নে কামরুল হাসান জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বলেন, অপরাধীদের পরিচয় গোপন নয়। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
পুলিশের পদক্ষেপ
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত আলতাব হোসেনের কপাল ও বুকে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকি জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় সাভার থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।