সম্পাদকীয়
বাঙালি কোনো একটি মানচিত্রের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। বরং আমাদের রয়েছে হাজার বছরের শিল্প, সাহিত্য-সংস্কৃতির বিশাল ক্যানভাস। বিশেষভাবে কোথাও নজর দিতে গেলে মনে হতে পারে-অন্য কোনোটা বাদ পড়ে যাচ্ছে না তো? আমরা ধীরে ধীরে সব বিষয়ে আলোকপাত করতে চায়।
শুভ বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩! নতুন বছরকে সামনে রেখে যাত্রাপথের শুরুতে আমরা পেয়েছি এক বঝাঁক প্রবীণ-নবীন লিখিয়ে, যাদের বিষয়বৈচিত্র্য মুগ্ধতা ছড়িয়েছে। শুধু ৪০০ বছরের প্রাচীন শহর ঢাকা বা বাংলাদেশের অভ্যন্তর নয়, সুদূর আমেরিকা থেকে শুরু করে সুইজারল্যান্ড, জাপান, অস্ট্রেলিয়া থেকেও যুক্ত হয়েছেন সুহৃদ-শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাদের অংশগ্রহণ আমাদেরকে প্রাণিত করেছে, নতুন স্বপ্নের বীজ বপণে মনোযে-াগী করেছে।
যে কেউ প্রশ্ন করতেই পারেন-এতো এতো পত্রিকা-মিডিয়ার ভিড়ে ঢাকা হেরাল্ড কেন? আমরাও এ বিষয়ে অনেক ভেবেছি, উত্তরটা নিজেদের মতো করে হয়তো আপনারাও দিতে পারবেন। তারপরও বলি-গতানুগতিকতার বাইরে দ্বিভাষিক (বাংলা-ইংরেজি) একটি মাসিক পত্রিকা হিসেবে শেকড়সন্ধানী কিছু বিষয় আমরা উপস্থাপন করবো, যা নিয়ে কেউ লেখেননি,
সেটা নিয়ে আমরা লিখবো, আমাদের পাঠকরাই এখানকার বড় লেখক। তারা যেকোনো বিষয়ে নির্দ্বিধায় লিখতে পারবেন। আমাদের প্রত্ননির্দশন, স্থাপত্যশৈলী, পর্যটনকেন্দ্র, জীববৈচিত্র্য থেকে শুরু করে মসলিনের সূক্ষ্মতা কিংবা নকশিকাঁথার প্রতিটি ফোঁড়ই আমাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির বাহক। আমরা এসব বিষয়কে প্রযত্নে রেখে সুদূর প্রবাসে বসবাসকারীদের অতীত-মন্থন কিংবা বর্তমান পর্যবেক্ষণকে সুন্দর-দৃষ্টিনন্দন-ভাবে উপস্থাপন করতে চাই। তারা লিখতে পারেন ভ্রমণ-পর্যটন কিংবা জীবন-সংগ্রামের জটিল-কুটিল চক্রব্যূহ নিয়ে।
আমরা বিশ্বাস করি-আমাদের শেকড় যত গভীর হবে, আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিস্তৃত হবে ততই। কাঠামোবদ্ধ কোনো বিষয় নয়, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি আর ইতিহাসের যৌথযাত্রায় যা কিছু সুন্দর, তা-ই আরো সুন্দর-সংহতভাবে উপস্থাপন করতে চাই আমরা। ক্ষরার দিনে; শিল্পের পথে এমন উদ্যোগে বিনিয়োগকারী; বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ীসহ সব সুহৃদকে জানাই আন্তরিক অভিবাদন। আপনারা আলো ফেলেছেন বলেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আবারও শুভ বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩।