স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে ৬টি জরুরি পরিবর্তন
স্ট্রোকের ঘটনা হঠাৎ মনে হলেও এর ঝুঁকি তৈরি হয় আমাদের প্রতিদিনের ভুল জীবনযাত্রা এবং অবহেলা থেকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক অর্গানাইজেশনের মতে, প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাসে বদল আনলেই স্ট্রোকের আশঙ্কা অনেকখানি কমিয়ে আনা সম্ভব।
১. নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা ও ওষুধ সেবন
উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশারকে স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ ধরা হয়। এটি নীরবে মস্তিষ্কের রক্তনালিগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ মেপে দেখা এবং প্রেশার থাকলে চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী নিয়ম করে ওষুধ খাওয়া জরুরি।
২. শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা ও ব্যায়াম
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি বা দ্রুত গতিতে হাঁটা প্রয়োজন। নিয়মিত শারীরিক কসরত শরীর থেকে ঘাম ঝরায়, হৃদস্পন্দন বাড়ায় এবং সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
৩. ধূমপান ও পরোক্ষ ধোঁয়া (প্যাসিভ স্মোকিং) ত্যাগ
ধূমপানের ফলে রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করে এবং রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। নিজে ধূমপান না করলেও পরোক্ষ ধূমপান বা 'প্যাসিভ স্মোকিং' হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির সমান ক্ষতি করে। তাই যেকোনো ধরনের ধোঁয়া এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।
৪. কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ
দীর্ঘদিনের ডায়াবিটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরল রক্তনালির মারাত্মক ক্ষতি করে। কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে রক্তনালিতে ফ্যাট জমে স্বাভাবিক রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। তাই ডায়াবিটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সঠিক চিকিৎসা ও খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা উচিত।
৫. ডায়েটে সঠিক পুষ্টিকর খাবার রাখা
প্রক্রিয়াজাত (Processed) বা অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবারের বদলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর শাকসবজি, তাজা ফলমূল ও দানাশস্য যুক্ত করতে হবে। একটি সঠিক ও সুষম ডায়েট শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৬. পূর্বলক্ষণ বা শারীরিক অস্বাভাবিকতা অবহেলা না করা
অনেক সময় স্ট্রোকের আগে কিছু সূক্ষ্ম লক্ষণ দেখা যায়। অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, হঠাৎ তীব্র মাথা ঘোরা, শরীরের কোনো একপাশ দুর্বল লাগা, কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা চোখে ঝাপসা দেখার মতো উপসর্গ দেখা দিলে একমুহূর্তও দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ক্রনিক সমস্যা থাকলে কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপন করলে আজই সতর্ক হোন। দৈনন্দিন এই ৬টি বিষয়ে সামান্য নজর দিলেই স্ট্রোকের মতো বড় বিপদ থেকে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।