অ্যালিয়ঁস ফ্রঁসেজে শুরু হলো "সার্চ সোল, সয়েল" শীর্ষক দলীয় শিল্পপ্রদর্শনী
অ্যালিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায় শনিবার শুরু হল "সার্চ সোল, সয়েল" (মৃত্তিকার সন্ধানে) শীর্ষক একটি দলীয় শিল্পপ্রদর্শনীর। কুন্তল বাড়ৈ-এর কিউরেশনে অনুষ্ঠিত এ প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন সমকালীন সাতজন শিল্পী—বনানী সিমলাই, দীপ্র বণিক, খাইদেম সিথি সিনহা, লুৎফা মাহমুদা, মো. ফাইজুল ইসলাম, মো. হাশেম এবং রূপশ্রী হাজং।
প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয় সন্ধ্যা ৬টায়, অ্যালিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার লা গ্যালারিতে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত বাংলাদেশি স্থপতি শামসুল ওয়ারেস এবং বিশিষ্ট শিল্পী মঈনুদ্দীন খালেদ।
সার্চ সোল, সয়েল (মৃত্তিকার সন্ধানে) এমন একটি প্রদর্শনী, যেখানে সাতজন শিল্পীর শিল্পভাবনা স্মৃতি, ভূদৃশ্য, সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার এবং পরিবেশের জটিল আন্তঃসম্পর্ককে নতুনভাবে অন্বেষণ করে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, স্থানীয় বাস্তবতা এবং গভীর পর্যবেক্ষণ থেকে নির্মিত এসব শিল্পকর্ম আমাদের সময়ের পরিবেশগত সংকট, পরিবর্তন এবং অস্তিত্বের নানা প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে। ক্রমবর্ধমান পরিবেশ দূষণ, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে প্রদর্শনীটি দর্শকদের প্রকৃতি, ভূমি এবং মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুনভাবে ভাবতে আহ্বান জানায়।
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি শিল্পী নিজস্ব শিল্পভাষায় পরিবেশ, স্মৃতি ও পরিচয়ের ভিন্ন ভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। বানানী সিমলাই খাদ্য, মাটি ও মানব অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ককে কেন্দ্র করে মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সহাবস্থানের কথা বলেন। মো. ফয়জুল ইসলাম শিল্পায়ন ও দূষণের ফলে সৃষ্ট অ্যাসিড বৃষ্টির পরিবেশ, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাবকে তাঁর শিল্পে তুলে ধরেছেন। লুৎফা মাহমুদা অভিবাসন, পরিচয় এবং ‘বাড়ি’ ধারণার মানসিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য অনুসন্ধান করেছেন। খাইদেম সিথি সিনহা মণিপুরি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্প ও প্রকৃতিনির্ভর নকশার মধ্য দিয়ে সংস্কৃতি ও প্রকৃতির গভীর বন্ধনকে উদযাপন করেছেন। মো. হাশেম পাহাড় ও উর্বর মাটির ক্ষয়কে স্মৃতি, প্রতিরোধ এবং টিকে থাকার প্রতীকে রূপ দিয়েছেন। রূপশ্রী হাজং হাজং জনগোষ্ঠীর লোকজ আচার, বিশ্বাস ও প্রকৃতির সঙ্গে তাদের আধ্যাত্মিক সম্পর্ককে সূচ-সুতার ইনস্টলেশনের মাধ্যমে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। অন্যদিকে, দীপ্র বণিক তাঁর শিল্পচর্চায় ভূদৃশ্য, পরিবেশ ও মানুষের হস্তক্ষেপের পরিবর্তনশীল সম্পর্ককে অনুসন্ধান করেছেন। সম্মিলিতভাবে এসব শিল্পকর্ম আমাদের প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন দৃষ্টিতে দেখতে এবং সংরক্ষণ, পুনর্গঠন ও সহাবস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে।
প্রদর্শনীটি ২৮ জুলাই পর্যন্ত চলবে।