এডহক কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত
দেশের জাতীয় খেলা কাবাডিকে পুনরুজ্জীবিত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
দেশের জাতীয় খেলা কাবাডিকে গতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক ধারায় ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের নতুন এডহক কমিটি। কমিটির প্রথম সভায় ঘরোয়া কাবাডি লীগ পুনরায় চালুর নীতিগত সিদ্ধান্তসহ বেশ কিছু দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সভাপতি মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভা পরিচালনা করেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।
সভায় দেশের কাবাডির বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ঘরোয়া লীগ না থাকায় খেলোয়াড়দের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে খেলার সুযোগ কমে গেছে এবং জাতীয় দলের জন্য নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরির ধারাবাহিকতাও ব্যাহত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন কমিটির সদস্যরা। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে দ্রুত ঘরোয়া লীগ চালু করে ক্লাবভিত্তিক কাবাডি কার্যক্রমকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় গৃহীত পরিকল্পনা অনুযায়ী, তৃণমূল পর্যায় থেকেই প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে নিয়মিত প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজন, প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি দক্ষ কোচ ও রেফারি তৈরির জন্য বিশেষ কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ আয়োজনের মাধ্যমে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হবে। নতুন প্রজন্মকে জাতীয় খেলার প্রতি আরও বেশি আগ্রহী করে তুলতে নিয়মিত বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিষয়েও সভায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ফেডারেশনের সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে কাবাডির হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসবে। ঘরোয়া লীগ পুনরায় চালু হলে ক্লাবভিত্তিক প্রতিযোগিতা সক্রিয় হবে, খেলোয়াড়রা নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন এবং জাতীয় দলের জন্য দক্ষ ও শক্তিশালী খেলোয়াড় তৈরির পথ আরও সুগম হবে। দেশের কাবাডি অঙ্গনকে একটি শক্ত কাঠামোর ওপর দাঁড় করাতে পর্যায়ক্রমে আরও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলে সভা শেষে জানানো হয়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মোস্তাক সরকার, মো. শাহাদাত হোসেন, কোরেশী মুহাম্মদ তানভীর, আজগর আলী ও মোহাম্মদ ওসমান গণি; যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু ও নাসির আহমেদ সাজু; কোষাধ্যক্ষ জাহিদ ইকবাল আলমাস এবং সদস্য দেলোয়ার হোসেন, ইনামুল হক খান বাবলু, নজরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলী, আব্দুল জলিল, রেজাউর রহমান চৌধুরী সুমন, এম এ হাফিজ, মো. খোকন মিয়া, জিল্লুর রহমান, শাহনাজ পারভীন মালেকা, আনোয়ারুজ্জামান লিটন, নুরুজ্জামান মিন্টু, মোহাম্মদ শাহ জালাল উদ্দিন, স্বপন খান, এস এম এ মান্নান, মিসেস সুরাইয়া বেগম এবং মাহবুব হোসেন বিজন।