ডিস্কো কুইনের আড়ালে অন্য এক উষা উত্থুপ

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
Main News Image

রঙিন কাঞ্জিভরম শাড়ি, কপালে বড় টিপ, গলাভরা গয়না আর দুর্দান্ত স্টেজ প্রেজেন্সে ‘উরি উরি বাবা’ কিংবা ‘রাম্বা হো’ গাওয়া—দর্শকদের কাছে উষা উত্থুপের এই ছবিটিই সবচেয়ে পরিচিত। কিন্তু এই রঙিন ডিস্কো কুইনের আড়ালে লুকিয়ে আছেন অন্য এক উষা উত্থুপ, যাঁর সংগীতের পরিধি কেবল নাচের গানে সীমাবদ্ধ নয়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের দীর্ঘ সংগীতজীবনের সেই অজানা ও আধ্যাত্মিক দিকটি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।

ডিস্কো ইমেজের আড়ালে আধ্যাত্মিক পথচলা : অধিকাংশ শ্রোতার ধারণা, উষা উত্থুপ মূলত ডিস্কো ও পার্টি সং-এর শিল্পী। তবে সেই ধারণা ভেঙে নিজের জীবনের কিছু অনন্য অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। উষা জানান, সরকারি আমন্ত্রণে কুম্ভমেলায় গিয়ে ভক্তিমূলক গান পরিবেশন করেছেন তিনি। এছাড়া তাঁর কণ্ঠে শোনা গেছে, ‘শিব তাণ্ডব স্তোত্রম’, ‘গণেশ বন্দনা’, ও ‘আইগিরি নন্দিনী’। শঙ্কর মহাদেবনের ‘আনন্দম’ অনুষ্ঠানে গাওয়া ‘রঘুপতি রাঘব রাজা রাম’সহ একাধিক ভজনও আছে তাঁর।

সম্প্রতি জগন্নাথ পুরীর মন্দির উৎসবে পরিবেশিত আধ্যাত্মিক গান, বাংলা প্রার্থনাসঙ্গীত ‘এ শুধু প্রার্থনা’ এবং অনুপ্রেরণামূলক গান ‘ইয়ে মত পুছো খুদা সে...’। শিল্পীর আক্ষেপ, তাঁর এই ভজন ও আধ্যাত্মিক পরিবেশনার খবর খুব কম মানুষের কাছেই পৌঁছায়। ফলে সিংহভাগ শ্রোতার কাছে তিনি এখনও শুধুই ডিস্কো গানের শিল্পী হিসেবে রয়ে গিয়েছেন।

একই গানের বারবার আবদার; বিরক্তি নয়, পরম আশীর্বাদ : মঞ্চে উঠলেই শ্রোতাদের পক্ষ থেকে বারবার ‘উরি উরি বাবা’ বা ‘রাম্বা হো’ গাওয়ার অনুরোধ আসে। তবে এতে বিন্দুমাত্র বিরক্ত হন না শিল্পী। উষা উত্থুপ স্পষ্ট জানান, তিনি এটাকে ঈশ্বরের আশীর্বাদ মনে করেন। শিল্পী বলেন, "অনেক শিল্পী মনে করেন তাঁরা গানকে জনপ্রিয় করেছেন। কিন্তু আমার বিশ্বাস ঠিক উল্টো—গান আমাকে তৈরি করেছে। এই গানগুলো না থাকলে 'উষা উত্থুপ' নামটাই হয়তো তৈরি হতো না।"

এই উপলব্ধি থেকেই আজও শ্রোতাদের সব ধরনের আবদার সানন্দে পূরণ করার চেষ্টা করেন তিনি। সুরকার অজয় দাসের সুরে গাওয়া তাঁর প্রিয় বাংলা গান ‘শুধু আকাশে কি বিদ্যুৎ চমকায়’ শোনানোর অনুরোধ এলে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হন, কারণ এতদিন পরেও মানুষ গানটিকে মনে রেখেছে।

সংগীতই জীবনের শেষ কথা : জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা সত্ত্বেও অহংকারের বিন্দুমাত্র স্পর্শেনি এই শিল্পীকে। তিনি স্পষ্ট জানান, গানকে তিনি কখনো নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করেননি। গানই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় এবং পরম আশীর্বাদ। শ্রোতাদের ভালোবাসাকে সম্মান জানানোই তাঁর জীবনের মূল দর্শন।

জনপ্রিয়তার প্রচলিত সংজ্ঞাকে দূরে ঠেলে, সংগীতের প্রতি গভীর বিনয় ও কৃতজ্ঞতাই উষা উত্থুপকে সাধারণের থেকে আলাদা করে রেখেছে।