সম্ভাবনায় ঠাসা ‘পাখির বাসা’

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৮ পিএম
Main News Image

পারিবারিক বন্ধন, প্রবীণদের তীব্র একাকিত্ব ও জীবনের সায়াহ্নে এসে ভালোবাসার নতুন সমীকরণকে প্রেক্ষাপট করে নির্মিত হতে যাচ্ছে পরিচালক সোমনাথ সেনের নতুন বাংলা চলচ্চিত্র ‘পাখির বাসা’। বর্তমানে সন্তানরা প্রতিষ্ঠিত হলেও বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ ও আবেগের জায়গাটি যেভাবে ফিকে হয়ে আসছে, সেই নির্মম বাস্তবতাই সেলুলয়েডে তুলে ধরছেন পরিচালক।

ছবির মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে দুই প্রবীণ মানুষ—মনোময় ও পরমাকে কেন্দ্র করে। এক অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি কর্মচারী। স্ত্রীকে হারানোর পর ছেলে হৃদয় ও বৌমা জুঁইয়ের সঙ্গেই একই ছাদের নিচে বাস করেন তিনি। কিন্তু সেখানে তার জন্য কোনো সম্মান বা ভালোবাসার স্থান নেই; বরং দিন কাটে অবহেলা, অপমান ও মানসিক নির্যাতনে। এই পরিবারে একমাত্র পালিত ছেলে ‘গোপাল’ তার পাশে দাঁড়ায়। কিন্তু রক্তসম্পর্ক না থাকায় পরিবারের অন্য সদস্যরা গোপালকে মেনে নিতে পারে না, যা নিয়ে সংসারে প্রতিনিয়ত অশান্তি লেগেই থাকে।

অন্যপ্রান্তে রয়েছেন পরমা—একজন স্বামীহারা, শিক্ষিতা ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নারী। তারও এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তবে নিজেদের সংসার ও কর্মজীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মায়ের জন্য সন্তানদের হাতে কোনো সময় নেই। প্রয়োজন ছাড়া তারা মায়ের খোঁজও নেয় না। এই একাকী জীবনে পরমার একমাত্র ভরসা তার কাজের মানুষ ‘মল্লিকদি’।

দুই নিঃসঙ্গ মানুষের জীবনে যখন একাকিত্বের ছায়া প্রকট হয়ে ওঠে, ঠিক তখনই মনোময় ও পরমার সাক্ষাৎ হয়। জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়ে এসে তাদের মাঝে এক আত্মিক ও নতুন সম্পর্কের সম্ভাবনা দেখা দেয়। তবে এই পথ চলা সহজ নয়। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, পরিবারের বিরোধিতা এবং প্রচলিত মানসিকতার বাধা পেরিয়ে তারা কি নিজেদের জন্য শান্তিময় একটি ‘পাখির বাসা’ বাঁধতে পারবেন? সেই প্রশ্নই ছবিটির মূল আকর্ষণ। পরিচালক সোমনাথ সেনের মতে, "বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে এই গল্পের প্রাসঙ্গিকতা অপরিসীম। সন্তানরা বিদেশে বা নিজেদের কাজে সফল হচ্ছে, কিন্তু বয়োবৃদ্ধ বাবা-মায়ের কোনো লাভ হচ্ছে না। আমাদের আধুনিক শহরগুলো যেন এক-একটি বৃদ্ধাশ্রমে রূপ নিচ্ছে। সেই ভাবনা থেকেই 'পাখির বাসা'র জন্ম।"

সমাজ ও পরিবারের গভীর মনস্তাত্ত্বিক রূপ তুলে ধরতে এই ছবিতে অভিনয় করেছেন একঝাঁক অভিজ্ঞ ও গুণী শিল্পী। তারা হলেন পাপিয়া অধিকারী, বিশ্বজিৎ চৌধুরী, মৌবণী সরকার, কন্যাকুমারী, মৌসুমী ভট্টাচার্য, বোধিসত্ত্ব মজুমদার, সান্ত্বনা বসু, দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য, শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়, অভিরাজ, দেব মণ্ডল প্রমুখ।

‘পাখির বাসা’ কেবল সাধারণ কোনো পারিবারিক ড্রামা নয়; এটি বর্তমান যুগের ক্ষয়ে যাওয়া পারিবারিক মূল্যবোধ ও প্রবীণদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থানের ওপর এক বাস্তব প্রতিফলন। আগামী দুর্গাপূজার আগেই প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। নির্মাতাদের আশা, এই ছবি দর্শকদের মনে মানবিকতার এক নতুন বার্তা পৌঁছে দেবে।