বিশ্বকাপ ফুটবলে এমন প্রতিবাদের অর্থ কী?

সানজীদা খান
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০২ এএম
Main News Image

মিসরের কোচ হোসাম হাসান

বিশ্বকাপ ফুটবলে মঙ্গলবার আটলান্টা স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা-মিসরের খেলা চলার সময় দুই হাত আড়াআড়ি (ক্রস) করে যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন কোচ হোসাম হাসান, তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা! মিসরের এই কোচের প্রতিবাদের ভাষা কেন এমন? কী এর অর্থ? শুরু হয়েছে খোঁজাখুঁজি! একটু সচেতন মহলই অবশ্য জানেন এর অর্থ বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণের প্রতিবাদ।

আটলান্টায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মেসি বাহিনীকে মিসর তো প্রায় গো-হারা হারিয়েই দিয়েছিল! পর পর দুই গোল হজম করে যখন আর্জেন্টিনা নাস্তানাবুদ, তখন রেফারির বিতর্কিত একাধিক সিদ্ধান্তই কী বিশ্ব আসর থেকে মিসরকে ছিটকে দিল? এরকম প্রশ্ন ফুটবলপ্রেমীদের অনেকের মনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর এই ম্যাচ চলাকালীন রেফারির ‘অন্যায়ের প্রতিবাদে’ বিক্ষুব্ধ হয়েছেন কোচ হোসাম। তিনি ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়রের সামনে বিশেষ ভঙিমায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দুই হাত আড়াআড়ি করে ইংরেজি ‘এক্স’ (X)-এর মতো চিহ্ন দেখান। যদিও রেফারি তার প্রতিবাদে ভ্রুক্ষেপ করেননি। উল্টো হলুদ কার্ড দেখিয়ে দিয়েছেন। 

ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফার নিয়ম অনুযায়ীই কিন্তু এমন বিশেষ চিহ্নের অর্থ মাঠে বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উত্থাপন।

তবে হলুদ কার্ড খেয়ে দমে যাননি হোসাম হাসান, খেলা শেষে বিস্ফোরক দাবি করেছেন সাংবাদিক সম্মেলনে। তিনি বলেছেন, মিসর আক্ষরিক অর্থেই প্রতারিত হয়েছে। তাদেরকে প্রতারিত করা হয়েছে।

অনেকে বলছেন, খেলায় মিসরের পরাজয়ের বড় কারণ বিতর্কিত কয়েকটি সিদ্ধান্ত। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকার সময় মোস্তফা জিকোর একটি গোল বাতিল করে দেয় ভিএআর (VAR Controversy)। এখানে যুক্তি হলোÑ গোলটি হওয়ার আগে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ফাউলের শিকার হন। যদিও পরে জিকো দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটিও করেন।

বড় বিপর্যয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। উদ্ধারকর্তার ভূমিকায় আবির্ভূত হন ক্রিশ্চিয়ানো রোমেরো ও লিওনেল মেসি। দল ফেরে সমতায়। কিন্তু আর্জেন্টিনার বক্সে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার মিসরের হামদি ফার্থিকে টেনে ধরে, যাতে অনেকের দাবি এটি ফাউল। কিন্তু রেফারি আমলে নিয়ে পেনাল্টির নির্দেশ না দেওয়ায় বিতর্ক উঠে তুঙ্গে। এর কিছুক্ষণ পরই এনজো ফার্নান্দেজ জয়সূচক গোলটি করে বাঁচিয়ে রাখেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ-স্বপ্ন! এসময়ই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মিসর-কোচ। ডাগআউটে ওই বিশেষ সংকেত দেখান তিনি।

কী আছে ওই চিহ্নে : মাঠে খেলোয়াড় বা দলের কোনো কর্মকর্তা যদি বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণের শিকার হন, তবে তিনি দুই হাতের কবজি ক্রস করে ‘এক্স’ চিহ্ন দেখাতে পারেন (FIFA Racism Protocol)। এই সংকেত দেখামাত্রই ফিফা নির্ধারিত তিন ধাপের বিশেষ প্রোটোকল অনুসরণ করতে হয় রেফারিকে।

প্রথম ধাপ : সাময়িকভাবে ম্যাচ থামিয়ে দিতে পারেন রেফারি, তবে তার আগে তিনি সবকিছু খতিয়ে দেখবেন। 

দ্বিতীয় ধাপ: একটু থেমে খেলা পুনরায় শুরুর পর যদি ফের এমন কিছু ঘটে, তবে চাইলে ম্যাচ স্থগিত করে দুই দলকে ড্রেসিংরুমে যেতে নির্দেশ দিতে পারেন রেফারি (Football Match Rules)। এমনটি হলে মাঠে উপস্থিত দর্শকের উদ্দেশ্যে খেলা বন্ধ রাখার নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়। 

খেলা বাতিলের ক্ষমতা : ফিফার প্রোটোকলের তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপটি সবচেয়ে কড়া। খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পরেও যদি বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণ সক্রিয় থাকে। তবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে রেফারি সম্পূর্ণ খেলা বাতিলের ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন (World Cup Match Abandonment)।

কিন্তু মিসরের কোচের প্রতিবাদ আমলে নেননি রেফারি। তাই এই পক্ষপাতিত্ব ও বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগে এরইমধ্যে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে মিসরীয় ফুটবল সংস্থা। সংবাদ সম্মেলনেও চূড়ান্ত অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সালাহরা। যা আর্জেন্টিনার অপ্ররোধ্য জয়কে বেশ বড় বিতর্কের মুখে ফেলেছে।

সানজীদা খান : সাংবাদিক, কথাসাহিত্যিক