দ্রুত চুক্তি শর্তে ইরানে হামলা বন্ধ : ট্রাম্প

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪১ পিএম
আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
Main News Image

ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ব্যাপক সামরিক হামলা স্থগিতের কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই হামলা বাতুলের জন্য শর্ত হিসেবে তিনি তেহরানের সাথে একটি 'দ্রুত চুক্তি' সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ সিদ্ধান্ত জানান।

চুক্তির প্রধান শর্তাবলি : ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই সমঝোতার দুটি প্রধান শর্ত রয়েছে, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা: আন্তর্জাতিক তেল ও পণ্য পরিবহনের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ তাৎক্ষণিকভাবে এবং পুরোপুরি খুলে দেওয়া। পারমাণবিক হুমকির অবসান: ‘ইরানের পারমাণবিক হামলার হুমকির’ স্থায়ী অবসান ঘটানো।

ট্রাম্প উল্লেখ করেন, এ সিদ্ধান্তটি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ আলোচনার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশের বিশেষ অনুরোধে তিনি সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত করেছেন, যাতে একটি কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, দুই পক্ষ ইতিমধ্যেই চুক্তির মূল পরিধি নিয়ে একমত হয়েছে।

সামরিক প্রস্তুতি ও ট্রাম্পের বার্তা : চুক্তি আলোচনার মধ্যে সামরিক প্রস্তুতি স্থগিত করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চরম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প পোস্টে লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আক্রমণ চালাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল এবং এমন মাত্রার সামরিক শক্তি মোতায়েন করা হয়েছিল যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আর দেখা যায়নি।

এর আগে মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের প্রধান জ্বালানি অবকাঠামোগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের বোমারু অভিযান চালানোর চূড়ান্ত পরিকল্পনা করছিল।

নিরাপত্তা সতর্কতা ও আঞ্চলিক কূটনীতি : উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে ভ্রমণের সময় ফ্লাইট বাতিল বা আকাশপথ বন্ধ হওয়ার মতো ঘটনার জন্য নাগরিকদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে—শনিবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পের সাথে ফোনালাপ করেন এবং ইরানের সম্ভাব্য হামলা ও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তবে ট্রাম্পের এই আলোচনার প্রস্তাব এবং হামলা স্থগিতের বিষয়ে ইরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। এর আগে তেহরান সতর্ক করে বলেছিল, ওয়াশিংটনকে কোনো আঞ্চলিক দেশ সহযোগিতা করলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হবে।

গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়। এপ্রিল মাসে করা একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত জুন মাসে ভেঙে যাওয়ার পর ওয়াশিংটন ও তেহরান তীব্র সংঘাত ও পাল্টা হামলায় জড়িয়ে পড়ে।

ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে আসছিল। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দর অবরোধসহ অবকাঠামোতে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালায়।