কী হয়েছে সাই পল্লবীর?

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৫ পিএম
আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
Main News Image

গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড মানেই নিখুঁত, টানটান এবং দাগহীন ত্বক—এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত সাধারণ দর্শক। কিন্তু সেই চেনা ছক ও তথাকথিত ‘নিখুঁত সৌন্দর্যের’ ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাই পল্লবী। মুখভর্তি ব্রণ এবং রোসেসিয়া-র মতো ত্বকের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা থাকা সত্ত্বেও, তা মেকআপের আড়ালে না লুকিয়ে স্বাভাবিক রূপ ও আত্মবিশ্বাসের সাথে রুপোলি পর্দায় ধরা দিয়েছেন তিনি।

এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী এই প্রসঙ্গে বলেছিলেন, "ব্রণ থাকা সত্ত্বেও মানুষ যখন আমাকে আমার মতো করেই গ্রহণ করে, তখন আমি বুঝতে পারি যে আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে আত্মবিশ্বাসে।" অনেকে ব্রণ এবং রোসেসিয়াকে একই সমস্যা মনে করলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিচারে দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়, ব্রণ (Acne): অতিরিক্ত তেল (সেবাম), মৃত কোষ এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে ব্রণ হয়। এর ফলে ত্বকে ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস বা সিস্ট তৈরি হতে পারে, যা অনেক ক্ষেত্রে বেশ যন্ত্রণাদায়ক হয়।

রোসেসিয়া (Rosacea), এটি এমন একটি সমস্যা যেখানে মুখ খুব সহজেই লাল হয়ে যায় (ফ্লাশিং)। ত্বকের রক্তনালিগুলো স্পষ্ট বোঝা যায়, মুখ ফুলে যেতে পারে এবং চোখের চারপাশে লালচে ভাব ও অস্বস্তি তৈরি হয়।

আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের সরাসরি প্রভাব পড়ে ত্বকের ওপর। ক্রনিক বা অতিরিক্ত মানসিক চাপের (Stress) ফলে শরীরে কর্টিসল নামক হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই কর্টিসল হরমোন বৃদ্ধির ফলে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষাকবচ দুর্বল হয়ে পড়ে। ত্বকের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ (Inflammation) বাড়ে। ব্রণ, রোসেসিয়া, এগজিমা কিংবা সোরিয়াসিসের মতো ক্রনিক সমস্যাগুলো ট্রিগার করে এবং ত্বকে অকাল বার্ধক্যের ছাপ ফেলে।

সাই পল্লবীর মতো ত্বকের এই ধরনের সংবেদনশীল সমস্যায় ভুগলে সঠিক জীবনযাত্রা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি, ত্বকে যেন পোরস (Pores) বন্ধ না হয়, সেজন্য সবসময় নন-কমেডোজেনিক পণ্য ব্যবহার করা উচিত। রোসেসিয়ার ক্ষেত্রে যেসব কারণে লালচে ভাব বা জ্বালাপোড়া বাড়ে (যেমন অতিরিক্ত রোদ, তীব্র গরম বা অতিরিক্ত মশলাদার খাবার), তা থেকে দূরে থাকতে হবে। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং যোগব্যায়াম বা মেডিটেশনের মাধ্যমে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন।

সুস্থ জীবনযাপন ও ত্বকের সাধারণ পরিচর্যা সত্ত্বেও যদি ব্রণ না কমে, যন্ত্রণা বাড়ে কিংবা রোসেসিয়ার লালচে ভাব ছড়িয়ে পড়ে—তবে অবহেলা না করে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের (Dermatologist) পরামর্শ নেওয়া উচিত।