দাঁতের অবহেলায় সাইনাসের ঝুঁকি: চাঞ্চল্যকর তথ্য সৌদি গবেষণায়
আপনার দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্য ভালো নেই? তবে সাবধান! অবহেলিত ওরাল হাইজিন বা দাঁতের সমস্যা কেবল মুখগহ্বরেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা সাইনাসের মারাত্মক রোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। সম্প্রতি সৌদি আরবের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সাইনোসাইটিস রোগের নেপথ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনুঘটক হিসেবে কাজ করে অনিয়ন্ত্রিত ডেন্টাল বা ওরাল হেলথের সমস্যা।
সৌদি আরবের কিং সৌদ ইউনিভার্সিটির ছয়জন দন্তরোগ বিশেষজ্ঞের একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান পত্রিকা প্রকাশনা সংস্থা ‘স্প্রিঙ্গার নেচার গ্রুপ’-এর ‘কিউরিয়াস’ (Cureus) জার্নালে। গবেষণায় ৪১৫ জন ম্যাক্সিলিয়ারি সাইনোসাইটিস (Maxillary Sinusitis) রোগীর সিটি স্ক্যান (CT Scan) ও চিকিৎসা সংক্রান্ত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে যেসব চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে, সাইনোসাইটিসে আক্রান্ত পুরুষদের মধ্যে ৮৩.৫% রোগীরই ওরাল হাইজিনে বিভিন্ন জটিলতা বা গাফিলতি রয়েছে। নারী রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ৬৯.৮%। সিটি স্ক্যানে দেখা গেছে, অধিকাংশ রোগীরই ওপরের ও নিচের পাটির মাড়ি সংলগ্ন চোয়ালের হাড়ের স্বাস্থ্য সন্তোষজনক ছিল না।
দাঁত ও সাইনাসের গভীর সম্পর্ক : আমাদের মাথার খুলির ভেতর চার জোড়া ফাঁকা প্রকোষ্ঠ বা চেম্বার থাকে, যাকে বলা হয় সাইনাস (এগুলো কপাল, চোখ, নাক ও গালের নিচে অবস্থিত)। দাঁত বা মাড়ির ক্ষয় ছাড়াও মাড়ি ও চোয়াল সংলগ্ন হাড়ের ওপর থাকা মিউকাসের ভেতরে লুকিয়ে থাকা জীবাণু সহজেই সাইনাসের প্রকোষ্ঠে ছড়িয়ে পড়ে ম্যাক্সিলিয়ারি সাইনাসের প্রদাহ তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই সমস্যাটি দ্বিমুখী। অর্থাৎ, শুধু দাঁত থেকে সাইনাসে সংক্রমণ ছড়ায় না; বিপরীতভাবে সাইনোসাইটিসের কারণে জমে থাকা মিউকাস ও ইনফেকশন থেকেও দাঁত ও মাড়িতে সংক্রমণ বা ব্যথা হতে পারে। কলকাতাভিত্তিক প্রখ্যাত ইএনটি (ENT) বিশেষজ্ঞরা এই গবেষণার বৈজ্ঞানিক গুরুত্বকে স্বাগত জানিয়েছেন। ড. অর্জুন দাশগুপ্ত (ইএনটি বিশেষজ্ঞ) বলেন, "দাঁত ও সাইনাসের সম্পর্কের বিষয়টি চিকিৎসা জগতে নতুন না হলেও, সৌদি গবেষকরা যেভাবে সিটি স্ক্যানের ডেটা বিশ্লেষণ করে ওরাল হাইজিনের সাথে সাইনাসের সম্পর্ক প্রমাণ করেছেন, তা সত্যিই অভিনব।"
কোন কোন উপসর্গে সতর্ক হওয়া জরুরি? : বিশেষ করে শীতকালে এবং বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় সাইনাস ও দাঁত—উভয় ব্যথাই বৃদ্ধি পায়। যদি নাকে সর্দি জমে থাকা বা কাঁচা জল পড়া, ঘন ঘন হাঁচি হওয়া ও নাক বন্ধ হয়ে থাকা, মাথা; কপাল; নাক ও গালের দু'পাশে তীব্র চাপ ও যন্ত্রণা হয় ও দাঁতে বা মাড়িতে আচমকা অজানা ব্যথা শুরু হওয়া তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
চিকিৎসকদের পরামর্শ : দাঁত, মাড়ি কিংবা চোয়ালের গঠনে কোনো গণ্ডগোল বা সংক্রমণ দেখা দিলে তা ফেলে না রেখে দ্রুত দন্তরোগ বিশেষজ্ঞের (Dentist) চিকিৎসা করানো উচিত। একইভাবে সাইনাসের তীব্র সমস্যা দেখা দিলে ইএনটি (ENT) বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সামান্য সচেতনতাই পারে দাঁত ও সাইনাস—উভয়কেই দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে।