রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ: অস্থায়ী দায়িত্বে স্পিকার

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম
Main News Image

মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ সংক্রান্ত সার্বিক বিষয় জানিয়ে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকেজাতীয় সংসদ ভবনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত বলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটি শূন্য হওয়ায়, সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার নিজেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

পদত্যাগপত্র পেশ: সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ পেশ করেন।

অস্থায়ী দায়িত্ব গ্রহণ: ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি ও অন্যান্য কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাচনের সময়সীমা: ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নতুন রাষ্ট্রপতি

বর্তমানে জাতীয় সংসদে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতায় রয়েছে। ফলে দলটির মনোনীত ব্যক্তিই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হবেন। মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে কাকে রাষ্ট্রপতির পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে বিএনপির শীর্ষপর্যায়ে কয়েক দিন ধরেই আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে কেউ মুখ খোলেননি।

চিকিৎসা শেষে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে নির্ধারিত সফরসূচির দুই দিন আগেই শুক্রবার দুপুরে দেশে ফেরেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিদেশে থাকায় এ বিষয়ে তার জানা ছিল না; তবে সাংবিধানিক নিয়ম অনুসারেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মানসিকভাবে পদত্যাগের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকেও তিনি তার বিদায় প্রস্তুতির আভাস দিয়েছিলেন।

মেয়াদের আগেই বিদায় : আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিলে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পৌনে দুই বছর আগেই তাকে পদত্যাগ করতে হলো।

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির পদ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন আলোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপ্রধানের পদে পরিবর্তনের দাবি আরও জোরালো রূপ নেয়, যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটল এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে।