সালমান-শাহরুখের সঙ্গে অভিনয়, কুলিতে করিশমার বোন: এখন কোথায় কাঞ্চন?
বলিউডে এমন অনেক তারকা রয়েছেন, যারা নব্বইয়ের দশকে প্রথম সারির তারকাদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেও পরবর্তীতে রূপালি পর্দা থেকে চিরতরে সরে দাঁড়িয়েছেন। তাদেরই একজন অভিনেত্রী কাঞ্চন। সালমান খান, শাহরুখ খান, অক্ষয় কুমার কিংবা গোবিন্দর মতো তারকাদের পাশাপাশি কারিশমা কাপুরের সঙ্গে বহু জনপ্রিয় সিনেমায় দেখা গেছে তাকে। তবে সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার থাকা সত্ত্বেও একসময় স্বেচ্ছায় অভিনয়কে বিদায় জানান তিনি।
বিজ্ঞাপনের ছবি দেখে প্রথম সুযোগ : ১৯৭০ সালের ১৭ এপ্রিল জন্ম কাঞ্চনের। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি ছিল গভীর ঝোঁক। আশির দশকের শেষভাগে কলেজে পড়ার সময় মডেলিং দিয়ে তার ক্যারিয়ার শুরু। সে সময় এক বিজ্ঞাপনে কাঞ্চনের ছবি দেখে মুগ্ধ হন পরিচালক সাওয়ান কুমার তাক। অভিনয়ের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও কাঞ্চনকে নতুন মুখ হিসেবে সুযোগ দেন তিনি।
১৯৯১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত হিট সিনেমা ‘সনম বেওয়াফা’-র মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ ঘটে কাঞ্চনের। ছবিতে সালমান খানের বিপরীতে থাকা রুকসার খানের বন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকের নজরে আসেন। অভিষেক সফল হলেও এরপর তাকে আর প্রধান নারী চরিত্রে খুব একটা দেখা যায়নি। সহজ-সরল চেহারার কারণে নির্মাতারা কাঞ্চনকে বারবার নায়ক-নায়িকার বন্ধু, বোন বা খলনায়কের মেয়ের চরিত্রেই কাস্ট করতে থাকেন।
একঝাঁক সুপারহিট সিনেমা : সহ-অভিনেত্রী হলেও বেশ কিছু জনপ্রিয় সিনেমায় কাঞ্চনের উপস্থিতি দর্শককে মুগ্ধ করেছে, আমানত (১৯৯৪): অক্ষয় কুমারের সঙ্গে অভিনয় করেন।
কুলি নম্বর ১ (১৯৯৫): কারিশমা কাপুরের বোন ‘শালিনী’র চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান। ছবির কালজয়ী গান ‘হুসন হ্যায় সুহানা’-তেও তার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
আর্মি (১৯৯৬): শাহরুখ খান ও শ্রীদেবীর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেন। মিঠুন চক্রবর্তী ও সঞ্জয় দত্তের মতো তারকাদের সঙ্গে ‘রাম অউর শ্যাম’ ও ‘জোরমানা’ ছবিতে কাজ করেন।
দক্ষিণী চলচ্চিত্রে সাফল্য : নব্বইয়ের দশকে বলিউডে শ্রীদেবী, মাধুরী দীক্ষিত, জুহি চাওলা, কারিশমা কাপুর ও রবীনা ট্যান্ডনদের ব্যাপক দাপট ছিল। ফলে মূল চরিত্রে নিজের অবস্থান তৈরি করতে দক্ষিণী সিনেমার দিকে পা বাড়ান কাঞ্চন।
১৯৯৩ সালে মালয়ালম সুপারস্টার মোহনলালের বিপরীতে ‘গন্ধর্বম’ ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি, যা বক্স অফিসে অভাবনীয় সাফল্য পায়। একই বছর তেলুগু সিনেমা ‘প্রেম পুস্তকম’-এ অভিনয় করে সমাদৃত হন। উল্লেখ্য, এই ছবির মাধ্যমেই তামিল সুপারস্টার অজিত কুমারের চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটেছিল।
কেন ছাড়লেন বিনোদন দুনিয়া? : নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে কাঞ্চনের কাজের সংখ্যা কমতে শুরু করে। দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন প্রজন্মের আগমন ও বলিউডের ধারায় পরিবর্তন এর বড় কারণ। বিভিন্ন মাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সে সময়ে চলচ্চিত্রে বাড়তে থাকা ‘সাহসী চরিত্র’ ও ‘আইটেম গান’-এর সংস্কৃতি পছন্দ ছিল না কাঞ্চনের। নিজের নীতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে আপস না করতেই ধীরে ধীরে বিনোদন জগৎ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ‘ইতিহাস’ (১৯৯৭), ‘মহব্বত অউর জং’ (১৯৯৮) ও ‘উলঝন’ (২০০১)-এর পর পুরোপুরি নিজেকে গুটিয়ে নেন এই অভিনেত্রী।
এখন কী করছেন কাঞ্চন? : বর্তমানে প্রচারের আলো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে একেবারেই দূরে রয়েছেন কাঞ্চন। বলিউডের গ্ল্যামার জগৎ বা জনসমক্ষে আসার কোনো আগ্রহ এখন আর তার নেই।
জানা গেছে, তিনি বর্তমানে মুম্বাইয়েই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। রূপালি পর্দাকে বিদায় জানালেও অভিনয়ের সঙ্গ ছাড়েননি—একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে ‘ড্রামা টিচার’ বা নাটকের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন তিনি। নতুন প্রজন্মকে অভিনয়ের নানা দিক শেখানোকেই জীবনের মূল লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন সাবেক এই অভিনেত্রী।