জিম্বাবুয়েতে নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের কঙ্কাল

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৯ এএম
Main News Image

দক্ষিণ আফ্রিকার ডাইনোসরদের বৈচিত্র্য ও বিস্তার সম্পর্কে এতদিনের প্রচলিত ধারণাকে বদলে দিল একটি নতুন আবিষ্কার। জিম্বাবুয়েতে গবেষকরা নতুন প্রজাতির এক ডাইনোসরের আংশিক কঙ্কাল উদ্ধার করেছেন, যা এই অঞ্চলের প্রাচীন বাস্তুতন্ত্র ও বিবর্তন সম্পর্কে সম্পূর্ণ নতুন তথ্য সামনে এনেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, তৎকালীন দক্ষিণ আফ্রিকা একক কোনো পরিবেশ ছিল না; বরং এটি বিভক্ত ছিল একাধিক আলাদা বাস্তুতন্ত্রে, যেখানে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির ডাইনোসর বসবাস করত।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন আবিষ্কৃত এই প্রজাতিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুসাঙ্গো মাতুসাডোনেনসিস’ (Musango matusadonensis)। স্থানীয় শোনা ভাষায় ‘মুসাঙ্গো’ শব্দের অর্থ ‘ঝোপঝাড়ে বসবাসকারী’। এটি জিম্বাবুয়েতে আবিষ্কৃত পঞ্চম ডাইনোসর প্রজাতি। বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘জার্নাল অব সিস্টেম্যাটিক প্যালিওন্টোলজি’-তে এই গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে।

২০১৮ সালে উত্তর জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদের উপকূলে খননকাজ চালিয়ে এই কঙ্কালটি উদ্ধার করেন আন্তর্জাতিক গবেষকরা। জিম্বাবুয়ে থেকে উদ্ধার হওয়া সমসাময়িক ডাইনোসর কঙ্কালের মধ্যে এটিকে অন্যতম পূর্ণাঙ্গ বলে উল্লেখ করেছেন বিজ্ঞানীরা। এতে মেরুদণ্ড, পাঁজর, সামনের ও পেছনের পা এবং পায়ের হাড় বেশ ভালোভাবে সংরক্ষিত রয়েছে।

আজ থেকে প্রায় ২১ কোটি বছর আগে (লেট ট্রায়াসিক যুগে) প্রজাতিটি পৃথিবীতে বিচরণ করত। ওই সময়ে ডাইনোসররা বিশ্বজুড়ে ছড়াতে শুরু করলেও স্থলভাগের মূল অধিপতি হয়ে ওঠেনি। বিবর্তনের পরবর্তী যুগে দেখা যাওয়া বিশালাকার ও দীর্ঘ গ্রীবাসম্পন্ন ডাইনোসরগুলোর তুলনায় মুসাঙ্গো ছিল বেশ ছোট ও হালকা গড়নের। এর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৪.৫ মিটার (১৫ ফুট) এবং ওজন ছিল আনুমানিক ২২২ কেজি (৪৯০ পাউন্ড)—যা একটি পূর্ণবয়স্ক শূকরের প্রায় সমান।

হাড় পরীক্ষার ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর সময় প্রাণীটির বয়স ছিল প্রায় আট বছর এবং এটি প্রায় পূর্ণবয়স্ক ছিল। চমকপ্রদ তথ্য হলো, হাড়ের গঠন দেখে বোঝা যায় জীবদ্দশায় এটি কোনো গুরুতর আঘাত বা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছিল।

কঙ্কালের মাথার খুলিটি পাওয়া না গেলেও বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এটি তৃণভোজী বা সর্বভুক প্রকৃতির ছিল। প্রাচীন নদী ও জলপ্রপাতের ধারে জন্মানো উদ্ভিদ খেয়েই এরা জীবনধারণ করত। লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের গবেষক পল ব্যারেট জানান, এতদিন ধারণা করা হতো যে পুরো দক্ষিণ আফ্রিকা জুড়ে কেবল এক ধরণের ডাইনোসরই ঘুরে বেড়াত। কিন্তু মুসাঙ্গোর আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, এই অঞ্চলে একাধিক ভিন্ন বাস্তুতন্ত্র বা ইকোলজিক্যাল জোন বিদ্যমান ছিল।

ব্যারেটের মতে, “এই আবিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে—এতদিন আমরা প্রাচীন প্রাণিজগৎ সম্পর্কে যা জেনেছি, তা সম্ভবত বিশাল এক অজানা জগতের সামান্য অংশ মাত্র।”

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালে জিম্বাবুয়ের বিজ্ঞানীরা আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ডাইনোসরের কঙ্কাল আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ‘মবিরেসরাস রাথি’ (Mbiresaurus raathi) নামের ওই প্রজাতিটি প্রায় ২৩ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে বাস করত। আকারে মাত্র এক মিটার উচ্চতার এবং সর্বোচ্চ ৩০ কেজি ওজনের সেই প্রজাতিটির তুলনায় সদ্য আবিষ্কৃত ‘মুসাঙ্গো’ ছিল আকারে অনেকটাই বড় ও বিবর্তিত।