‘ছবিওয়ালা’র প্রিমিয়ারে রাহুলের স্মৃতিচারণা: আবেগাপ্লুত মমতাশঙ্কর
‘ছবিওয়ালা’র একটি দৃশ্যে দেবলীনা দত্তের সঙ্গে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত
প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ ছবি ‘ছবিওয়ালা’ দেখে স্তব্ধ ও আবেগপ্লুত হয়ে পড়লেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মমতাশঙ্কর। সম্প্রতি ছবিটির বিশেষ স্ক্রিনিং শেষে আনন্দবাজার ডট কমের মুখোমুখি হয়ে তিনি নিজের মনের গভীর অনুভূতির কথা ব্যক্ত করেন।
পর্দায় রাহুলের রূপায়িত ‘বিশ্বকর্মা’ চরিত্রের সঙ্গে তার বাস্তব জীবনের অদ্ভুত মিল খুঁজে পেয়েছেন মমতাশঙ্কর। ছবিতে দারিদ্র্যের চরম সীমানায় পৌঁছেও বিশ্বকর্মা যেমন নিজের নীতির সঙ্গে আপস করেনি, রাহুলও ঠিক তেমনই ছিলেন। আজকাল যেখানে মূল্যবোধ বিকিয়ে দেওয়া সহজ, সেখানে রাহুলের এই আপসহীন মনোভাব ও আদর্শের প্রশংসা করেন তিনি।
ছবিটি দেখতে দেখতে রাহুলকে নিয়ে পুরোনো অনেক স্মৃতি মনে পড়ে যায় মমতাশঙ্করের। 'খেলা' ধারাবাহিকের সময়ের ছেলেমানুষ রাহুল থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে তাঁর ভেতরের গভীর মানুষটিকে উপলব্ধি করার কথা জানান তিনি। রাহুলের ছেলের নাম ‘সহজ’ রাখার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন— কঠিন কথা বলা সহজ হলেও, সহজ কথা বলা কিংবা সহজ হওয়া ভীষণ কঠিন। রাহুল যে কতটা গভীর মনের মানুষ ছিলেন, তা তাঁর এই ভাবনার মধ্যেই প্রকাশ পায়।
সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, ছবিতে রাহুলের চরিত্রের শেষ দৃশ্যের সঙ্গে তাঁর বাস্তব জীবনের করুণ পরিণতির অদ্ভুত মিল। বেশ কিছুদিন আগে শ্যুট করা এই দৃশ্যের সঙ্গে রাহুলের সত্যি সত্যি চলে যাওয়াকে মেলাতে গিয়ে মমতাশঙ্করের মনের ভেতরে দলা পাকিয়ে আসছিল।
পরিচালক বাপ্পার কাজের প্রশংসা করে মমতাশঙ্কর বলেন, নতুন হিসেবে অত্যন্ত নিখুঁত ও সুন্দরভাবে ছবিটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিশ্বকর্মার স্ত্রীর চরিত্রে দেবলীনা দত্তের অভিনয়কেও তিনি অসাধারণ বলে উল্লেখ করেন। এন্ড ক্রেডিটে রাহুলের পর্দার পেছনের মুহূর্তগুলো দেখে প্রেক্ষাগৃহের অনেকেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।
মমতাশঙ্করের ভাষায়, "পথের ধারে গাছগুলো যেমন দূরে গিয়ে এক হয়ে যায়, তেমনই ছবি আর জীবন যেন এখানে এক বিন্দুতে এসে মিশে গেছে।" রাহুলের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাঁর স্মৃতিকে ধরে রাখতে সকল দর্শককে ‘ছবিওয়ালা’ সিনেমাটি দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।