বিশ্ব ফুটবলে স্পেনের রাজত্ব: অনন্য শেষের কবিতা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ১১:৫২ এএম
আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
Main News Image

স্পেন আবারও প্রমাণ করল, ফুটবল বিশ্বে শেষ কথা তারাই বলে। নিউ জার্সির ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি নিজেদের করে নিল 'লা রোহা'। দুই বছর আগে বার্লিনে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর, এই বিশ্বজয় স্প্যানিশ ফুটবলের আধিপত্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এর আগে ২০০৮ সালের ইউরো জয়ের ঠিক দুই বছর পর, ২০১০ সালেও তারা একইভাবে বিশ্বকাপ জিতে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। সেই সোনালী ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটল ২০২৬ সালে।

একই সঙ্গে পুরুষ ও নারী দল বিশ্বসেরা*

স্পেন ফুটবল ইতিহাসের পাতায় এমন এক রেকর্ড গড়েছে যা আগে কেউ কখনো কল্পনাও করতে পারেনি। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো দেশ একই সময়ে পুরুষ ও নারী—উভয় বিভাগে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। ২০২৩ সালে সিডনিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের নারীরা বিশ্বজয় করেছিল, আর এবার পুরুষ দল আর্জেন্টিনার স্বপ্ন ভেঙে ঘরে তুলল বিশ্বসেরার মুকুট।

গত পাঁচ বছরে অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায় থেকে শুরু করে সিনিয়র দল পর্যন্ত স্পেন মোট ১৬টি বিশ্ব ও ইউরোপীয় শিরোপা জিতেছে। ফুটবল বিশেষজ্ঞ গিয়েম বালাগ ঠিকই বলেছেন, "এটি কেবল জয় নয়, এটি একটি নিরেট আধিপত্য।"

স্পেনের শিরোপার মেশিন (২০২২-২০২৬)

স্প্যানিশ ফুটবলের অবিশ্বাস্য সাফল্যের পরিসংখ্যান=

নারী ফুটবল (মোট ১১টি শিরোপা):

১টি বিশ্বকাপ (২০২৩)

২টি নেশনস লিগ (২০২৪, ২০২৫)

যুব পর্যায়: অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ (২০২২), ৫টি অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, এবং অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায়ে একাধিক শিরোপা।

পুরুষ ফুটবল (মোট ৫টি শিরোপা):

১টি বিশ্বকাপ (২০২৬)

১টি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ (২০২৪)

১টি নেশনস লিগ (২০২৩)

১টি অলিম্পিক স্বর্ণপদক (২০২৪)

১টি অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ (২০২৬)

দে লা ফুয়েন্তে: এক 'ঝুঁকিপূর্ণ' সিদ্ধান্তের মহাবিপ্লব

২০২২ সালের ডিসেম্বরে লুইস দে লা ফুয়েন্তেকে যখন স্পেনের প্রধান কোচ করা হয়, তখন ফুটবল মহলে সংশয় ছিল আকাশচুম্বী। বড় কোনো ক্লাব পরিচালনার অভিজ্ঞতা না থাকা এই কোচকে দায়িত্ব দেওয়াটা ছিল এক বড় জুয়া। কিন্তু কাতারে মরক্কোর কাছে হেরে বিদায় নেওয়া দলটিকে তিনি এক অপরাজেয় শক্তিতে রূপান্তর করলেন।

দে লা ফুয়েন্তে বয়সভিত্তিক দলগুলোর খেলোয়াড়দের আগে থেকেই চিনতেন। ফলে তিনি এমন এক দল গড়ে তুলেছেন যা প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, মাঠে ধৈর্যশীল এবং জয়ের ক্ষুধায় মত্ত। বর্তমানে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে স্পেন টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার অনন্য বিশ্বরেকর্ড ধরে রেখেছে।                                                                                                                                                                                                                             নারী ফুটবলের রূপান্তর ও নতুন জেনারেশন

দশ বছর আগেও স্পেনে নারী ফুটবলের চিত্র ছিল চরম অবহেলার—যেখানে খেলোয়াড়দের নিজেদের যাতায়াতের খরচ নিজেদের দিতে হতো। কিন্তু বিগত পাঁচ বছরের নিবিড় একাডেমি ব্যবস্থা ও উন্নত সুযোগ-সুবিধা স্পেনের নারী ফুটবলকে বিপ্লবের চূড়ায় পৌঁছে দিয়েছে।

ভবিষ্যতের জন্য স্পেনের এই জয়যাত্রা থামার কোনো লক্ষণ নেই। পুরুষ দলে লামিনে ইয়ামাল ও পাউ কুবারসির মতো দুই ১৯ বছর বয়সী কিশোর ফুটবলার প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। পেলে এবং জিউসেপ্পে বার্গোমির পর ইয়ামাল ইতিহাসের তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার রেকর্ড গড়লেন। ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি ঠিকই বলেছেন—স্পেনের এই সুপরিকল্পিত ফুটবল কাঠামো আগামী বহু বছর বিশ্ব ফুটবলকে শাসন করবে।