দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষিত রাখার উপায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৮ এএম
Main News Image

চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি সত্ত্বেও বাংলাদেশে গ্লুকোমা, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি ও ক্যাটার‍্যাক্টের মতো রোগের কারণে দৃষ্টিশক্তি ক্ষয় বড় একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো ব্যথা বা উপসর্গ থাকে না। ফলে রোগীরা ভাবেন তাদের দৃষ্টি স্বাভাবিক আছে, অথচ ভেতরে স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যায়। মূলত মানুষ চোখের পরীক্ষা বলতে শুধু চশমার পাওয়ার পরিবর্তন বোঝে এবং বয়স বা ক্লান্তির অজুহাতে চোখ পরীক্ষা এড়িয়ে যায়।

আধুনিক প্রযুক্তির ভূমিকা : বর্তমানে Comprehensive eye examination বা চোখের সম্পূর্ণ পরীক্ষার মাধ্যমে চোখের চাপ, অপটিক নার্ভ ও রেটিনার সূক্ষ্ম পরিবর্তন ধরা সম্ভব। আধুনিক কিছু প্রযুক্তি এক্ষেত্রে বড় বদল এনেছে: অপটিক নার্ভ ও রেটিনার সূক্ষ্ম পরিবর্তন শনাক্ত করে। ডিজিটাল রেটিনাল ইমেজিং ডায়াবেটিক ক্ষতির প্রথম লক্ষণ ধরে ফেলে। Automated Visual Field Testing দৃষ্টিশক্তির প্রাথমিক ঘাটতি নির্ণয় করে।

কাদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা জরুরি: বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক: ক. ৪০ বছরের ঊর্ধ্বে সকল প্রাপ্তবয়স্ক। খ. ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী। গ. পরিবারে গ্লুকোমার ইতিহাস থাকলে। ও ঘ. দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ব্যবহারকারী এবং উচ্চ মায়োপিয়া আক্রান্ত ব্যক্তি।

আগেভাগে রোগ নির্ণয়ের সুফল : গ্লুকোমার কারণে নষ্ট হওয়া দৃষ্টিশক্তি আর ফেরানো যায় না, তবে আগে ধরা পড়লে ক্ষতি প্রতিরোধ করা যায়। আবার সময়মতো ক্যাটারাক্টের চিকিৎসা করলে দৃষ্টিশক্তি ফেরার পাশাপাশি শরীরের ভারসাম্য বজায় থাকে, যা বয়স্কদের ফিমার হাড় ভাঙার ঝুঁকি ১৬% থেকে ৩৩% পর্যন্ত কমায়।

অন্যান্য সমস্যা: শিশুদের ট্যারা চোখ দ্রুত শনাক্ত করলে ‘লেজি আই’ বা স্থায়ী দৃষ্টিবিভ্রাট এড়ানো যায়। এছাড়া ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি দ্রুত স্ক্রিনিং করে লেজার ও ইনজেকশনের মাধ্যমে অন্ধত্ব ঠেকানো সম্ভব।

তাই নিয়মিত চোখের পরীক্ষাই দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষিত রাখার একমাত্র উপায়।