সমুদ্রের ২ হাজার মিটার গভীরেও প্লাস্টিকের থাবা, হুমকিতে তলদেশের জীববৈচিত্র্য

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম
আপডেট: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
Main News Image

পৃথিবীর সবচেয়ে নির্জন, প্রতিকূল ও দুর্গম পরিবেশেও থাবা বসিয়েছে মানুষের ফেলা প্লাস্টিক বর্জ্য। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার মিটার (৬,৫০০ ফুট) গভীরে থাকা শামুক ও ঝিনুকের দেহেও বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক বা প্লাস্টিকের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের 'নর্থ ফিজি বেসিন' এবং ভারত মহাসাগরের 'সেন্ট্রাল ইন্ডিয়ান রিজ' এলাকা থেকে সংগৃহীত গভীর সমুদ্রের প্রাণীর ওপর গবেষণাটি চালিয়েছেন কোরিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বায়োসায়েন্স অ্যান্ড বায়োটেকনোলজির একদল বিজ্ঞানী। বিজ্ঞানবিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী 'ওয়াটার রিসার্চ'-এ সম্প্রতি এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, পরীক্ষা করা প্রাণীগুলোর ৯২ শতাংশের শরীরে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। নমুনা হিসেবে সংগৃহীত ১২টি প্রাণীর মধ্যে ১১টির দেহেই মিলেছে প্লাস্টিকের উপস্থিতি। আক্রান্ত প্রতিটি প্রাণীর দেহে গড়ে ৩.৪২ টুকরা করে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে, যার মধ্যে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বহুল ব্যবহৃত 'পলিস্টাইরিন' জাতীয় প্লাস্টিকই সবচেয়ে বেশি।

সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী সে-জু কিম বলেছেন, "প্লাস্টিক দূষণ এখন সমুদ্রের তলদেশের 'হাইড্রোথার্মাল ভেন্ট' বাস্তুতন্ত্রেও ছড়িয়ে পড়েছে, যা একসময় পৃথিবীর সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন ও সুরক্ষিত পরিবেশ হিসেবে বিবেচিত হতো।"

গবেষণার তথ্যানুযায়ী, প্রাণীদের খাবার গ্রহণের অভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে তাদের শরীরে প্লাস্টিক জমার স্থান ভিন্ন হচ্ছে, শামুক: সমুদ্রের তলদেশ থেকে খাবার খুঁটে খাওয়া শামুকের ক্ষেত্রে মূলত পরিপাকতন্ত্রেই মাইক্রোপ্লাস্টিক জমে থাকতে দেখা গেছে। ঝিনুক: পানি ছেঁকে খাবার গ্রহণ করায় ঝিনুকের সারা শরীরজুড়ে সমভাবে প্লাস্টিক ছড়িয়ে পড়েছে।

এছাড়া ভৌগোলিক দিক থেকেও দূষণের মাত্রায় পার্থক্য দেখা গেছে। বিজ্ঞানীরা জানান, প্রশান্ত মহাসাগরের তুলনায় ভারত মহাসাগরের তলদেশের প্রাণীদের দেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঘনত্ব অনেক বেশি।

সমুদ্রের কয়েক হাজার মিটার গভীর থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য ছেঁকে বা পরিষ্কার করে তুলে আনা বাস্তবে প্রায় অসম্ভব। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, সমুদ্রের একেবারে তলদেশের বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করতে হলে উৎসস্থলেই প্লাস্টিকের ব্যবহার ও দূষণ রোধ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।