পায়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কী করবেন?
বর্ষাকালের স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া ও রাস্তার জমা জল-কাদা পায়ের স্বাস্থ্যের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। বৃষ্টিতে ভিজে বা নোংরা জল পার হয়ে বাড়ি ফেরার পর পায়ে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের আক্রমণ, বিশ্রী দুর্গন্ধ, ত্বক রুক্ষ হয়ে যাওয়া কিংবা 'অ্যাথলিটস ফুট'-এর মতো ইনফেকশনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। প্রতিদিন পার্লারে গিয়ে যত্ন নেওয়ার সময় বা সুযোগ সবার থাকে না। তবে মাত্র ১০ মিনিটের একটি সহজ ঘরোয়া 'ফুট ডিটক্স' এবং নিয়মিত কিছু অভ্যাসের মাধ্যমেই পদযুগলকে রাখা যায় জীবাণুমুক্ত, মসৃণ ও সতেজ।
১. বাড়ি ফিরেই প্রাথমিক পরিষ্কার : বাইরে থেকে ঘরে ফেরার সাথে সাথেই প্রথম কাজ হবে পা পরিষ্কার করা। নোংরা জল-কাদা ধুয়ে ফেলতে কলের সাধারণ জলে পা ভালো করে ধুয়ে নিন। ত্বকের উপরিভাগে থাকা ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করতে একটি ভালো অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করা উচিত।
২. ১০ মিনিটের ঘরোয়া 'ফুট ডিটক্স' : পায়ের ক্লান্তি লাঘব এবং জীবাণু দূর করতে ঘরে বসেই মাত্র ১০ মিনিটে ফুট ডিটক্স করে নিতে পারেন। হালকা গরম জল (গোড়ালি ডোবার মতো), ২ চামচ এপসম সল্ট (Epsom Salt), ৩-৪ ফোঁটা টি ট্রি এসেনশিয়াল অয়েল (Tea Tree Oil)। একটি টাব বা গামলায় সহনশীল হালকা গরম জল নিন। অতিরিক্ত গরম জল ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট করে দেয়, তাই হালকা উষ্ণ জলই শ্রেয়। জলে এপসম সল্ট এবং টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে নিন। এপসম সল্টে থাকা ম্যাগনেশিয়াম পায়ের পেশির ব্যথা ও ফোলা ভাব কমায়। অন্যদিকে টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে। এই জলে পা ডুবিয়ে ১০ মিনিট বিশ্রাম নিন। এটি শক্ত ত্বককে নরম করবে এবং নখের কোনায় থাকা জীবাণু ধ্বংস করবে।
৩. মৃত কোষ দূর করা ও সঠিক উপায়ে পা শুকানো : ১০ মিনিট ভেজানোর পর পিউমিক স্টোন বা নরম তোয়ালে দিয়ে গোড়ালি ও পায়ের তলা আলতো করে ঘষে নরম হয়ে যাওয়া মৃত কোষ পরিষ্কার করে নিন। ধোয়ার পর পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে পা খুব ভালোভাবে মুছতে হবে। বিশেষ করে আঙুলের মধ্যবর্তী ফাঁকগুলো যেন একদম শুকনো থাকে, কারণ ওখানে জমে থাকা আর্দ্রতা থেকেই ফাঙ্গাল ইনফেকশন ছড়ায়।
৪. ময়েশ্চারাইজেশন ও সুরক্ষা : পায়ের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ফুট ডিটক্স শেষে একটি ভালো ফুট লোশন, কোল্ড ক্রিম বা প্রাকৃতিক অ্যালোভেরা জেল দিয়ে পায়ে মাসাজ করুন। এটি ত্বকে একটি প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে এবং পা মসৃণ রাখে। ভেজা জুতো বা মোজা বেশিক্ষণ পরে থাকলে ফাঙ্গাল ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়ে। বর্ষার দিনে সম্ভব হলে এমন জুতো ব্যবহার করুন যা দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং হাওয়া-বাতাস চলাচল করতে পারে। পায়ের নখ সবসময় কেটে পরিষ্কার রাখুন, যাতে নখের ভেতরের ফাঁকে কাদা ও জীবাণু জমতে না পারে।
প্রতিদিন কাজ শেষে বাড়ি ফিরে এই সামান্য ১০ মিনিটের যত্ন আপনার পা-জোড়াকে রাখবে সুস্থ, জীবাণুমুক্ত এবং ক্লান্তিহীন!