ফ্রান্স-মরক্কোর দ্বৈরথে সব রেফারি আর্জেন্টিনার, বিতর্ক তুঙ্গে

সানজীদা খান
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০১:০৮ পিএম
আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২২ এএম
Main News Image

মিসরের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার ‘বিতর্কিত’ উল্লাস না কাটতেই নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে (১০ জুলাই) ফ্রান্স-মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা পরিচালনায় ৫ সদস্যের রেফারির পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে ফিফা। আর সেখানেই দেখা দিয়েছে গণ্ডগোল, ৫ জন রেফারিই আর্জেন্টিনীয়।

আরও মজার ঘটনা হচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপে এবারই প্রথম কোনো একটি ম্যাচে একটি দেশের সব রেফারি দায়িত্ব পালন করবেন। আর ফাকুন্দো তেল্লো রয়েছেন প্রধান রেফারির দায়িত্বে। যিনি ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপেও মরক্কো-পর্তুগাল খেলায় রেফারি ছিলেন।

ফাইনালে মেসিদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ফ্রান্সের সঙ্গের খেলায় আর্জেন্টিনীয় রেফারি নিয়োগের কারণে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ এখন সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে! কারণ মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পরে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ব্যাপক ডালপালা গজিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। 

এদিকে বোস্টনে ফরাসি বধের আগ্নেয়াস্ত্র তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে মরক্কো ফুটবল দল। শেষ আটের ‘ব্লকবাস্টার ম্যাচের’ আগে দুর্দান্ত অনুশীলনের ছবি এক্স হ্যান্ডেলে ছড়িয়েছে মরক্কো ফুটবল ফেডারেশন। তারা শেষ ষোলোর শক্তিশালী শারীরিক লড়াইয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের সহ-আয়োজক কানাডাকে ৩-০ গোলে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে তারা। ওই খেলায় ফাউল হয়েছিল ৩৮টি। আর রেফারি ৮টি হলুদ কার্ড দেখান।

এতোকিছুর পর প্রতিপক্ষ পরাক্রমশালী ফ্রান্সের বিরুদ্ধে পায়ে বল গড়ানোর আগে মরক্কোর আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে।

কানাডার সঙ্গে প্রথমার্ধে কিছুটা এলোমেলো হলেও দ্বিতীোর্ধে মরক্কো বিস্তার করে একচ্ছত্র আধিপত্য। এসময় দলের হয়ে অনন্য জোড়া গোল করেন আজাদ্দিন ওনাহি। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম মরক্কো দলের হয়ে বিশ্বকাপে জোড়া গোলের রেকর্ড হাঁকান এই তারকা। আর খেলার শেষমুহূর্তে দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন সুফিয়ান রাহিমি। পাশাপাশি রেকর্ড বুকেও নাম তুলেছেন আশরাফ হাকিমি ও ব্রাহিম দিয়াজ। ডিফেন্ডার হিসেবে ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে তিনটি অ্যাসিস্টের রেকর্ড হাকিমির। আর ৪টি অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টকারী আফ্রিকান ফুটবলার এখন ব্রাহিম দিয়াজ।

এতো সব রেকর্ডে মোড়া মরক্কো দল এখন ফরাসিদের রুখে দিতে চাঙ্গা। তাই সবার চোখ মাঠের ফুটবলের সঙ্গে ফাকুন্দো তেল্লোর রেফারিংয়ে। ফুটবলবিশ্বের কড়া নজর বিশ্লেষণ করবে সবকিছুই।