পুতিনের প্রাসাদের কাছে রিসোর্টে ড্রোন হামলায় নিহত ৭

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
আপডেট: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
Main News Image

রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র গেলেনঝিকের আরখিপো-ওসিপোভকা এলাকার একটি রিসর্টে প্রাণঘাতী ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ভয়াবহ বিস্ফোরণে তিন শিশু-সহ অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ৪০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২১ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে সরাসরি ইউক্রেনকে দায়ী করেছে মস্কো।

পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক : কৃষ্ণসাগরের তীরবর্তী গেলেনঝিকের আরখিপো-ওসিপোভকা গ্রামে প্রতি বছর গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে হাজার হাজার পর্যটক সমবেত হন। ঘটনার দিন দুপুরেও বহু মানুষ সমুদ্র সৈকতে স্নান করছিলেন এবং রিসর্টে সময় কাটাচ্ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সৈকতের ধারে পর্যটকদের ভিড়ের মধ্যে আচমকাই একটি ড্রোন গোঁত্তা খেয়ে আছড়ে পড়ে এবং বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। বিস্ফোরণের ঠিক পূর্বে গুলির শব্দও শোনা যায়। সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ড্রোনটি আছড়ে পড়ার আগে রুশ প্রতিরক্ষা বাহিনী সেটি ভূপাতিত করার চেষ্টা চালিয়েছিল। ফলে ড্রোনটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে রিসর্টে পড়ে বিস্ফোরণ ঘটায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

'পুতিনস প্যালেস' ও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু : হামলাটি যে এলাকায় ঘটেছে, সেখান থেকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসস্থান হিসেবে পরিচিত বিতর্কিত ‘পুতিনস প্যালেস’ খুব বেশি দূরে নয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ইউক্রেনীয় ড্রোনের আসল লক্ষ্য ছিল পুতিনের এই সুরক্ষার চাদরে মোড়া প্রাসাদটিই। তবে রুশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাসাদটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিক্রিয়া : রাশিয়া এই ঘটনাকে ‘জঙ্গি হামলা’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা অভিযোগ করেন, বেসামরিক সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করেই কিয়েভ এই হামলা চালিয়েছে। তিনি পশ্চিমী রাষ্ট্রগুলোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগ করেন, ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাস্তবে এই ধরনের আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে মদত দিচ্ছে।

অন্যদিকে, এই হামলার কিছুদিন আগেই কিয়েভে কূটনীতিবিদদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, "রাশিয়ার যুদ্ধ থামানোর কোনো সদিচ্ছা নেই। ইউক্রেন একদিনের জন্যও যুদ্ধ চায়নি এবং কিয়েভ সবসময় শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়।" তবে কূটনৈতিক চাপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক জবাব বজায় রেখে মস্কোকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করতে চায় ইউক্রেন।

বর্তমানে পুরো এলাকায় তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে রাশিয়ার সেনা ও নিরাপত্তা সংস্থা।