বর্ষায় চুলে আনুন প্রাকৃতিক জেল্লা
মেঘলা আকাশ, ঝুম বৃষ্টি আর সোঁদা মাটির গন্ধ মন ভালো করে দিলেও, বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে চুলে। বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে চুল জলীয় বাষ্প শুষে নেয়, ফলে কিউটিকল ফুলে উঠে চুল হয়ে পড়ে রুক্ষ, প্রাণহীন ও উস্কোখুস্কো। বিশেষ করে যাঁদের চুল কোঁকড়ানো বা ঢেউখেলানো, তাদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
সঠিক প্রোডাক্ট নির্বাচন, সঠিক অভ্যাস ও কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়ের মাধ্যমে এই মরশুমেও চুলকে ঝলমলে ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখা সম্ভব।
১. স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখা ও সঠিক শ্যাম্পু নির্বাচন : বর্ষায় স্ক্যাল্প ঘেমে তেলতেলে হয় এবং বৃষ্টির পানি ও দূষণ মিলে চুলের ডগা রুক্ষ করে তোলে। অনেকেই মনে করেন বর্ষায় শ্যাম্পু কম করা ভালো, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। স্ক্যাল্প সবসময় পরিষ্কার রাখা জরুরি। লরিয়েল প্যারিস হায়ালুরন ময়েশ্চার ৭২এইচ, বিব্লান্ট ইনটেন্স ময়েশ্চার বা লাভ বিউটি অ্যান্ড প্ল্যানেট। চুলে কালার করা থাকলে বা প্রিমিয়াম ফর্মুলা চাইলে কেরাস্টেস জেনেসিস কিংবা ওলাপ্লেক্স নম্বর ৪ (Olaplex No. 4) ব্যবহার করতে পারেন।
২. কন্ডিশনার ও হেয়ার মাস্কের সঠিক ব্যবহার : শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহার করা আবশ্যক, কারণ এটি খোলা কিউটিকল বন্ধ করে আর্দ্রতা লক করে দেয়। লরিয়েল প্যারিস, ডাভ ইনটেন্স রিপেয়ার, মরোক্কানঅয়েল বা ওলাপ্লেক্স নম্বর ৫। সপ্তাহে অন্তত দু'দিন কন্ডিশনারের বদলে ডিপ-ময়েশ্চারাইজিং হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করুন। বাজেটভেদে প্লাম, ডাভ, পিলগ্রিম, বায়োলেজ (স্মুদ প্রুফ) অথবা স্যাঁলো-স্টাইল ফলাফলের জন্য কেরাস্টেস বা মরোক্কানঅয়েল মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।
৩. ঘরোয়া টোটকা ও সঠিক স্টাইলিং : চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখতে ঘরোয়া উপকরণ বেশ কার্যকরী: শ্যাম্পু করার আধ ঘণ্টা আগে নারকেল বা আমন্ড তেলের সঙ্গে ভিটামিন-ই ক্যাপসুল অথবা কয়েক ফোটা রোজমেরি অয়েল মিশিয়ে স্ক্যাল্পে হালকা মালিশ করুন। একটি স্প্রে বোতলে ১ কাপ ফোটানো ঠান্ডা পানি, ২ চামচ অ্যালোভেরা জেল এবং ১টি ভিটামিন-ই ক্যাপসুল ভালো করে মিশিয়ে বানিয়ে নিন। চুল রুক্ষ লাগলেই এটি স্প্রে করে নিতে পারেন। ভেজা চুলে ভুলেও চিরুনি দেবেন না। চুল একটু শুকোলে চওড়া দাঁতের চিরুনি দিয়ে নিচ থেকে জট ছাড়ান। হিট স্টাইলিং করার আগে অবশ্যই হিট প্রোটেক্ট্যান্ট স্প্রে এবং শেষে লিভ-ইন সিরাম ব্যবহার করুন।
৪. পুষ্টিকর ডায়েট ও নিয়মিত ডগা ছাঁটাই : চুলের সৌন্দর্য বজায় রাখতে ভেতর থেকে পুষ্টি দরকার, প্রতিদিনের খাবারে প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, হেলদি ফ্যাট এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। প্রতি ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ পর পর চুলের ডগা একটু ছেঁটে নিলে ডগা ফাটার সমস্যা কমে এবং চুল সুস্থ থাকে।
নিয়মিত এই সাধারণ রুটিন মেনে চললে বর্ষাকালেও আপনার চুল থাকবে নরম, মসৃণ ও স্বাস্থ্যে উজ্জ্বল।