শিশুরা কেন স্থুল হবে?

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
আপডেট: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
Main News Image

করোনা ভাইরাস (কোভিড) পরবর্তী সময়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এক আশঙ্কাজনক পরিবর্তন এসেছে। ঘরবন্দি জীবন, ডিজিটাল স্ক্রিনের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার ও কায়িক পরিশ্রমের অভাব শিশুদের শারীরিক বিকাশে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘ওয়ার্ল্ড ওবেসিটি অ্যাটলাস ২০২৬’-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতে প্রায় ৪.১ কোটি শিশু স্থূলতা বা ওবেসিটির (Childhood Obesity) সমস্যায় ভুগছে।

শৈশব যেখানে চঞ্চলতা ও সুস্থতার প্রতীক হওয়ার কথা, সেখানে বিপুল সংখ্যক শিশুর এই অকাল স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবং চাইল্ডহুড ওবেসিটি প্রতিরোধে যৌথভাবে কোমর বেঁধে নেমেছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR) এবং ইউনেসেফ (UNICEF)।

নীতি নির্ধারণ ও বিশেষ উদ্যোগ: শিশুদের ওবেসিটি রুখতে কেবল মুখে সচেতনতা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট নীতি প্রণয়ন। এই উদ্দেশ্যে ICMR-NIN, UNICEF India এবং পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া (PHFI) যৌথভাবে ‘লেটস ফিক্স আওয়ার ফুড’ (LFOF) কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে ‘নিউট্রিশন এনভায়রনমেন্ট অ্যাসেসমেন্ট টুলকিট ফর স্কুলস’ (NEAT-S) শীর্ষক একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এতে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি পড়ুয়ার জন্য দক্ষতাভিত্তিক পুষ্টি শিক্ষা (Skill-based nutrition education) বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হয়েছে।

স্কুলে শিশুরা দিনের একটি বড় সময় পার করে। তাই স্কুলের খাদ্য পরিবেশ ও দৈনিক দিনচর্চা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে:

১৮ বছরের কম বয়সিদের লক্ষ্য করে অতিরিক্ত ফ্যাট, চিনি এবং সোডিয়ামযুক্ত (High Fat, Sugar and Salt - HFSS) জাঙ্ক ফুডের সমস্ত বিজ্ঞাপন বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

FSSAI-এর ২০২০ সালের নির্দেশিকা মেনে স্কুলের গেটের ৫০ মিটারের মধ্যে কোনো প্রকার অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি বা তার বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না। মহারাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে।

অতিমাত্রায় নুন, চিনি ও ফ্যাটযুক্ত খাবারের জন্য নির্দিষ্ট মাপকাঠি তৈরি করতে FSSAI-কে অনুরোধ করা হয়েছে।

দৈনিক শরীরচর্চা বাধ্যতামূলক করা : দৈনিক ৬০ মিনিটের ব্যায়াম: ১ম থেকে ১২class পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন অন্তত ৬০ মিনিট শরীরচর্চা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেয়েদের শারীরিক সক্রিয়তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে, ছেলেরা দিনে গড়ে ৪০ মিনিট শরীরচর্চা করলেও মেয়েরা করে মাত্র ২৫ মিনিট। ছেলেরা দিনে গড়ে ৫০ মিনিট কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করলেও মেয়েরা করে মাত্র ১০ মিনিট। তাই প্রতিটি স্কুলে যাতে ছাত্রীদের শরীরচর্চা ও খেলাধুলায় সমান অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রসেসড ফুডের সহজলভ্যতা ও খেলাধুলার সংকুচিত সুযোগ আমাদের শিশুদের ভবিষ্যতের সামনে বড় হুমকি। খাদ্য সচেতনতা তৈরি, প্রসেসড ফুড নিয়ন্ত্রণ এবং দৈনিক শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমেই নিশ্চিত করতে হবে যেন কোনো শিশুই স্থূলতার শিকার না হয়।