আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে শুরু হলো ফজল রাব্বী মৃধার আলোকচিত্র প্রদর্শনী

হেরাল্ড প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম
আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
Main News Image

গুপি বাঘা প্রোডাকশনস লিমিটেড এবং ভিউজ অ্যান্ড ভিশন প্রোডাকশনের প্রযোজনায়, ফজল রাব্বী মৃধা পরিচালিত অপ্রকাশিত চলচ্চিত্র অ্যান অ্যাপল ট্রি ইনসাইড দ্যাহেড-কে কেন্দ্র করে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু হলো আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায়।

প্রদর্শনীটি ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত লা গ্যালারি, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা, ধানমন্ডি-তে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনীটি উন্মুক্ত থাকবে। 

প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৃবিজ্ঞানী, জনবুদ্ধিজীবী ও সুবক্তা ড. মানস চৌধুরী; টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী জয়িতা মহলানবিশ; এবং স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা, ভিউজ অ্যান্ড ভিশন প্রোডাকশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চলচ্চিত্রটির প্রযোজক জসিম আহমেদ। তাঁদের উপস্থিতি প্রদর্শনীটির তাৎপর্য আরও বাড়িয়ে তোলে। 

"অ্যান অ্যাপল ট্রি ইনসাইড দ্য হেড" প্রদশনীটি মূলত একটি মুক্তি না পাওয়া চলচ্চিত্রের দৃশ্যায়ন ও আবহকে কেন্দ্র করে আয়োজিত আলোকচিত্রের প্রদশনী। চলচ্চিত্রের নির্মাণকালীন সময়ে ধারণ করা আলোকচিত্রের মধ্য থেকে নির্বাচিত আলোকচিত্রসমূহের মাধ্যমে এই প্রদশনীটি এমন এক গল্পের অংশিবেশষ তুলে ধরে যা এখনও রুপালি পর্দায় পৗঁছায়নি। পুরো সিনেমাটি সরাসির তুলে ধরার বদলে এই আলোকচিত্রগুলো দর্শকদের এর আবহ, চরিত্র, প্রকৃতি, অঙ্গভঙ্গি ও ক্ষণস্থায়ী মুহূর্তগুলোকে আবিষ্কার করার আহ্বান জানায়, যার মাধ্যমে দর্শকেরা ছবির আলোছায়ায় নিজেদের মতো করে গল্পটি উপলব্ধি করতে পারবেন। 

প্রদর্শনী এবং চলচ্চিত্রটি উপস্থাপনের এই বিকল্প পদ্ধতি সম্পর্কে প্রযোজক আরিফুর রহমান বলেন:

“একজন প্রযোজক হিসেবে আমি মনে করি, সিনেমা এমন এক শিল্পমাধ্যম, যা মানুষের কাছে পৌঁছাতে এবং যত বেশি সম্ভব দর্শকের কাছে ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম হওয়া উচিত। কিন্তু প্রচলিত পরিবেশনা ব্যবস্থা সবসময় একটি চলচ্চিত্রকে তার সম্ভাব্য সর্বাধিক দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ করে দেয় না। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে আমরা সেই পরিচিত পথ থেকে কিছুটা সরে এসে অ্যান অ্যাপল ট্রি ইনসাইড দ্য হেড-কে আলোকচিত্রের মাধ্যমে নতুনভাবে দর্শকের সামনে তুলে ধরছি। এখানে একজন দর্শক সহজেই একটি কক্ষে প্রবেশ করে চলচ্চিত্রটিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃষ্টিকোণ থেকে আবিষ্কার করতে পারেন এবং নিজের মতো করে এর অর্থ ও অনুভূতি নির্মাণ করতে পারেন।”

চলচ্চিত্র সম্পর্কে

আদম-হাওয়ার গল্প এবং তাঁদের নিষিদ্ধ ফল গ্রহেণর ঘটনাটি মানবসভ্যতায় জ্ঞান, প্রলোভন ও নিষ্পাপতা হারােনার অন্যতম প্রাচীন প্রতীক হইয়ে আছে।। অ্যান অ্যাপল ট্রি ইনসাইড দ্য হেড সেই প্রাচীন স্মৃতিকে অবলম্বন করে এমন এক রহস্যময় জগতে প্রবেশ করে, যেখানে বিশ্বাস, ভয় এবং মানুষের মন একে অপরের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে যায়।

মিন্টু মৃধার স্ত্রী জেসমিন এবং তাঁদের ছেলে সোহাগ যেন এক সম্মোহনী ঘােরর মেধ্য জীবনযাপন করে; প্রায়শই তারা কােনো কারণ ছাড়াই বাড়ি থেকে বের হয়ে দূরে কোথাও হারিয়ে যায়। অদৃশ্য কোনো শক্তি তার পরিবারের ওপর ভর করেছে, এমন বিশ্বাস থেকে মিন্টু এক সাধুর শরণাপন্ন হয়। সাধু তাকে একটি আশীর্বাদপুষ্ট আপেল দেন, যা নিরাময়ের ক্ষমতা রাখে বলে বিশ্বাস করা হয়। কিন্তু সেই আপেলটি থেকে যায় অব্যবহৃত।


ক্রমে অদ্ভুত কিছু ঘটনা বারবার ঘটতে থাকে এবং বাস্তবতা ও বিভ্রমের মধ্যকার সীমারেখা ধীরে ধীরে অস্পষ্ট হয়ে যায়। আপেলটি তখন এক রহস্যময় উপস্থিতিতে পরিণত হয়; কখনো সম্ভাব্য নিরাময়, কখনো প্রলোভন, আবার কখনো এক অজানা কিছুর সংকেত হিসেবে। বিশ্বাস ও সংশয়ের মাঝখানে আটকে পড়া মিন্টু এমন এক অন্ধকারের আরও গভীরে প্রবেশ করতে থাকে, যার উৎস হয়তো অতিপ্রাকৃত, মানুষের মনস্তত্ত্ব, কিংবা তারও বহু পুরোনো কোনো অজানা বাস্তবতায় নিহিত।

ফজল রাব্বী মৃধা রচিত ও পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি স্বাধীন বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের একজন উদীয়মান নির্মাতার স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বরকে তুলে ধরে। খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা আরিফুর রহমান, বিজন এবং জসিম আহমেদের প্রযোজনায় এটি দক্ষিণ এশিয়া থেকে বিশ্বমঞ্চে সাহসী ও স্বকীয় গল্প নিয়ে আসার ধারাবািহক অঙ্গীকার প্রকাশ করে। 

পরিচালক সম্পর্কে

ফজল রাব্বী মৃধা বাংলাদেশের একজন তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা। তাঁর নির্মাণে মনস্তাত্ত্বিক ও মানবিক অভিজ্ঞতার জটিল দিকগুলো একটি স্বতন্ত্র চলচ্চিত্রভাষার মাধ্যমে উঠে আসে।

তাঁর চলচ্চিত্র পায়ের তলায় মাটি নাই ৫ম নেপাল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা ফিচার চলচ্চিত্র বিভাগে গৌতম বুদ্ধ পুরস্কার লাভ করে। একই চলচ্চিত্র শ্রীলঙ্কার ৭ম জাফনা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা নবাগত চলচ্চিত্র বিভাগে বিশেষ জুরি উল্লেখ অর্জন করে।

অ্যান অ্যাপল ট্রি ইনসাইড দ্য হেড -এর মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্বাস, পরিবার, স্মৃতি, ভয় এবং বাস্তবতা ও উপলব্ধির মধ্যকার সীমারেখা নিয়ে তাঁর স্বতন্ত্র ও আবহনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণের অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছেন।