ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা: জ্বালানি বাজারে উত্তেজনা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৩ পিএম
আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম
Main News Image

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত নতুন করে মোড় নিয়েছে। সম্প্রতি তেহরান মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালানোর পর, তার জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ওমান উপসাগরে চারটি এবং ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের কাছে একটি ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

মার্কিন পদক্ষেপের জবাবে ইরান জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এর মধ্যে ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে।

পাল্টাপাল্টি হামলা ও প্রাণহানির আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, আক্রান্ত ইরানি ট্যাংকারগুলো ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বিলিয়ন ডলারের 'ছায়া নেটওয়ার্কের' অংশ, যা আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করে। খারগ দ্বীপটি ইরানের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই টার্মিনাল দিয়েই রপ্তানি হয়।

অন্যদিকে, ওমানের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্তরেও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার ইরানের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই হামলায় তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যায় এবং অন্তত ৭৩ জন আহত হয়। এর ফলে বাধ্য হয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করে।

জ্বালানি বাজারের প্রতিক্রিয়া ও ইরানের পরবর্তী হুমকি

সামরিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। এশিয়ার বাজারে দিনের শুরুতেই অপরিশোধিত তেলের দাম ১.৫% বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯.৪১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম ১.৬% বৃদ্ধি পেয়ে ৯৪.৫৫ ডলারে পৌঁছায়।

ইরান আরও তীব্র প্রতিশোধের হুমকি দিয়ে কুয়েত ও বাহরাইন বন্দরের কাছে থাকা মার্কিন-সংশ্লিষ্ট সব ট্যাংকার ও জাহাজের ক্রুদের দ্রুত জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে।

পানির নিচের ড্রোন ও যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত অবস্থান

হামলার ঠিক আগে ইরানের নৌবাহিনী দাবি করে, তারা হরমুজ প্রণালি থেকে একটি চালকবিহীন মার্কিন সাবমেরিন জব্দ করেছে। তবে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স নিশ্চিত করেছেন, ড্রোনটি পুরনো মডেলের এবং বিকল হয়ে পড়ার পরই ইরানি বাহিনী সেটি হাতে পায়। এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য বা ক্লাসিফাইড প্রযুক্তি ছিল না।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই উত্তেজনার বিষয়ে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, "ইরান যতবার মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার চেষ্টা করবে, ততবারই তারা নিজেদের ট্যাংকার হারাবে।"