জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা: বিশ্ববাজারে তেল একশ ডলার ছুঁইছুঁই

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৭ এএম
Main News Image

জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সম্প্রতি ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার মার্কিন বাহিনী কর্তৃক ধ্বংস করার পর প্রতিশোধ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয় তেহরান। গত সপ্তাহে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার জেরে মঙ্গলবার খার্গ দ্বীপের কাছে থাকা ইরানি ট্যাংকারগুলোতে আঘাত হেনেছিল যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট মারাত্মক রূপ নিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, এই ‘শাস্তিমূলক অভিযানে’ জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটির রক্ষণাবেক্ষণ স্থাপনা ও যুদ্ধবিমানের আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জর্ডান সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা তাদের ভূখণ্ডের দিকে আসা ১৮টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।

সংকট আরও গভীর হওয়ার পেছনে বেশ কিছু প্রধান ঘটনাক্রম ভূমিকা রাখছে।

আঞ্চলিক জাহাজে হামলার হুঁশিয়ারি: জর্ডানে হামলার পাশাপাশি কুয়েত ও বাহরাইন উপকূলের কাছে অবস্থানরত তেলবাহী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে আইআরজিসি। এর আগে জাহাজগুলোর ক্রুদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ইরান।

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, মার্কিন নৌসেটে ইরানের ক্রমাগত আক্রমণের জবাবেই ট্যাংকার ধ্বংস করা হয়েছে এবং সামনে এ ধরনের হামলা আরও বাড়তে পারে।

হরমুজ প্রণালী ও ড্রোন জব্দ: যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। এছাড়া প্রণালীটি থেকে একটি অত্যাধুনিক মার্কিন অনাকাঙ্ক্ষিত সাবমেরিন ড্রোন জব্দের দাবি করেছে আইআরজিসি, যদিও যুক্তরাষ্ট্র এটিকে পুরোনো মডেলের ও কারিগরি ত্রুটিযুক্ত বলে দাবি করেছে।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে দুটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারেও হামলার দাবি জানিয়েছে। সংঘাত তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বাড়ছে; আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ৯৯.৩৮ ডলার এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই-এর দাম ৯৪.৫১ ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে।