১৭ বছরেই সলমনের নায়িকা, কঠিন অসুখে নিঃস্ব পুজাকে বাঁচান সলমন?
১৭ বছর বয়সে সলমন খানের বিপরীতে বলিউডে পা রেখেও প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি পূজা দাদবাল। পরে অভিনয় ছেড়ে গোয়ায় সংসার পাতেন। ২০১৮-তে গুরুতর অসুস্থ হয়ে বিপাকে পড়লে পুরনো সহ-অভিনেতা সলমন তাঁর চিকিৎসার খরচে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।
মাত্র ১৭ বছর বয়স। বলিউডের অন্যতম আলোচিত তারকা সলমন খানের বিপরীতে নায়িকা হয়ে বড়পর্দায় পা রেখেছিলেন পূজা দদবাল। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘বীরগতি’। নায়িকা হিসাবে পূজার সামনে তখন যেন খুলে গিয়েছিল রুপোলি পর্দার এক নতুন দরজা। কিন্তু তার পর জীবনটা যে ভাবে পরিকল্পনা করেছিলেন, সে ভাবে এগোয়নি।
‘বীরগতি’ বক্সঅফিসে সেভাবে সাফল্য পায়নি। পূজা ভেবেছিলেন এর পরে হয়তো একের পর এক কাজ আসবে, কিন্তু তা-ও হয়নি। অভিনয়ের পাশাপাশি ছোটপর্দায় কাজের মাধ্যমেও চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেখানেও যে খুব বেশি নজর কেড়েছিলেন দর্শকের, তেমন নয়।
তাই এক সময় অভিনয়জগৎ থেকেই সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন পূজা। বিয়ের পরে গোয়ায় সংসার পাতেন। সেখানে স্বামীর সঙ্গে একটি ‘ক্যাসিনো’ পরিচালনার কাজে যুক্ত হন। বলিউডের আলো, ক্যামেরা, শ্যুটিং— সবকিছু থেকে অনেক দূরে গিয়ে শুরু হয় তাঁর অন্যরকম জীবন।
কিন্তু কয়েক বছর পর আচমকাই নেমে আসে অন্ধকার। ২০১৮ সালে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হন পূজা। ফুসফুসেও দেখা দেয় একাধিক সমস্যা। ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়তে থাকেন তিনি। চিকিৎসার খরচ জোগাড় করাও কঠিন হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সেই সময়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি তিনি।
শেষ পর্যন্ত প্রায় নিঃস্ব অবস্থায় মুম্বইয়ে ফিরে আসেন সলমনের নায়িকা। পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষও ছিল হাতে গোনা। এক শুভাকাঙ্ক্ষীর সাহায্যে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু চিকিৎসা চলার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে খরচ। তখনই পুরনো পরিচিতদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে পূজা নিজের অসহায়তার কথা জানান। বলিউডে যাঁদের সঙ্গে এক সময় কাজ করেছিলেন, তাঁদের কাছেও সাহায্যের আবেদন করেন। সেই ভিডিও নজর এড়ায়নি সলমনেরও।
পূজার দুঃসময়ে হাত বাড়িয়ে দেন সলমন। শোনা গিয়েছে, তাঁর চিকিৎসার খরচ ছ’মাস বহন করেছিলেন অভিনেতা। রবি কিশনও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে সেই সহায়তা পূজার কাছে হয়ে ওঠে নতুন করে বেঁচে থাকার অবলম্বন।
পরে সলমনের সাহায্যের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত পূজা বলেছিলেন, ‘‘আজ আমি যে দ্বিতীয় জীবন পেয়েছি, তা ওঁর জন্যই।’’ তিনি জানিয়েছেন সলমনের কাছে সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবেন তিনি।
তবে সুস্থ হয়ে ওঠার পরেও যে তাঁর জীবন খুব একটা মসৃণ হয়েছে তা নয়। ২০২০ সালে আবার চেষ্টা করেছিলেন অভিনয়ে ফেরার। কিন্তু সে ভাবে সুযোগ আসেনি। সংসার চালানোর জন্য এখন টিফিন পরিষেবার ব্যবসা শুরু করেছেন।