ঝাপসা ও লাল চোখ: লেন্স ব্যবহারে বিপদ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম
আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম
Main News Image

কনট্যাক্ট লেন্স পাওয়ারের বিকল্প কিংবা ফ্যাশনের অংশ হিসেবে দারুণ উপযোগী হলেও এর ব্যবহারে সামান্য অসাবধানতা চোখের চরম ক্ষতির কারণ হতে পারে। লেন্স ব্যবহারের পর চোখ ঝাপসা হয়ে যাওয়া, অনবরত জল পড়া কিংবা চোখ লাল হয়ে ফুলে ওঠার মতো উপসর্গগুলো কর্নিয়ায় মারাত্মক সংক্রমণের পূর্বলক্ষণ।

চোখে সমস্যা ও সংক্রমণের মূল কারণ

মেয়াদোত্তীর্ণ লেন্সের ব্যবহার: দৈনিক, মাসিক কিংবা বাৎসরিক—প্রতিটি লেন্সেরই একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ব্যবহারের ফলে লেন্সে ক্ষতিকর জীবাণু জমা হয়।

কর্নিয়ায় অক্সিজেনের ঘাটতি:লেন্স সরাসরি কর্নিয়ার ওপর থাকে, যা চোখের স্বাভাবিক বাতাস ও অক্সিজেন গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে কর্নিয়া শুষ্ক হয়ে চোখ ঝাপসা, লাল ও চুলকানির সমস্যা দেখা দেয়।

ভুল রক্ষণাবেক্ষণ ও অনিয়ম:অপরিষ্কার হাতে লেন্স স্পর্শ করা, নির্দিষ্ট সলিউশন ছাড়া লেন্স রাখা কিংবা লেন্স পরা অবস্থায় চোখের মেকআপ করলে চোখের ভেতরে দ্রুত জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে।

অসাবধানতার মারাত্মক ঝুঁকি

সিউডোমোনাস ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ: অসাবধানতার সুযোগে মূলত Pseudomonas নামক ব্যাকটেরিয়া চোখে বাসা বাঁধে, যা অবিরাম চোখ জ্বালাপোড়া ও ব্যথার সৃষ্টি করে।

কেরাটাইটিস বা কর্নিয়ার আলসার: লেন্স ব্যবহারের অনিয়ম কর্নিয়ায় ক্ষত তৈরি করে আলসারে রূপ নিতে পারে, যা দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা ও দুর্বল করে দেয়।

কর্নিয়াল অ্যাব্রেশন: লেন্স পরা বা খোলার সময় নখের আঁচড় লাগলে অথবা লেন্সে সূক্ষ্ম চিড় থাকলে কর্নিয়ার উপরিভাগ ছিলে গিয়ে ক্ষত তৈরি হয়। সময়মতো চিকিৎসা না করালে এটি স্থায়ী অন্ধত্বের কারণ হতে পারে।

যাঁরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন

মেয়াদ পার হয়ে যাওয়ার পরও একই লেন্স ব্যবহারকারী।
লেন্স পরা অবস্থায় রাতে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস যাঁদের।
জীবাণুমুক্ত সলিউশন ব্যবহার না করে সাধারণ জল বা ভুল উপায়ে লেন্স সংরক্ষণ করলে।অপরিষ্কার হাতে লেন্স খোলা বা পরা করলে এবং লেন্স পরে চোখের মেকআপ করলে।
দীর্ঘক্ষণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) কক্ষে কাজ করা কিংবা একটানা মোবাইল ও কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা ব্যক্তিবর্গ।

চোখে সামান্য অস্বস্তি বা লালভাব দেখা দিলেই অবিলম্বে লেন্স ব্যবহার বন্ধ করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।