কুমড়ো খেলে কি সুগার বাড়ে?
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মিষ্টি কুমড়ো খাওয়া নিরাপদ কি না, তা নিয়ে বিস্তর ভ্রান্তি রয়েছে। স্বাদে মিষ্টি হওয়ায় অনেকেই একে খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেন। নিচে রক্তে শর্করার ওপর কুমড়োর প্রভাব ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বনাম গ্লাইসেমিক লোডডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কোনো খাদ্য উপাদান নির্বাচন করতে মূলত দুটি বিষয় বিবেচনা করা হয়:
গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI): এটি নির্দেশ করে কোনো খাবার কত দ্রুত রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়ায়। কুমড়োর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৭৫। সাধারণ নিয়মে ৭০-এর বেশি হলে তা 'উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স' ধরা হয়।
গ্লাইসেমিক লোড (GL): গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কেবল শর্করা শোষণের গতি মাপলেও, গ্লাইসেমিক লোড খাবারের পরিমাণ ও শর্করার মোট অনুপাত হিসাব করে। ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় এটিই অধিক নির্ভুল। কুমড়োর গ্লাইসেমিক লোড মাত্র ৩ (১০-এর নিচে থাকা সব খাবারই রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে নিরাপদ হিসেবে গণ্য)।
কেন ডায়াবেটিকদের জন্য কুমড়ো উপকারী?
১. উচ্চ ফাইবার: কুমড়োতে প্রচুর পরিমাণে ভোজ্য ফাইবার রয়েছে। ফাইবার খাবার হজম ও কার্বোহাইড্রেট শোষণের গতি মন্থর করে দেয়, ফলে খাওয়ার পর রক্তে হঠাৎ সুগার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
২. কম ক্যালরি ও পানি: এর প্রায় ৯০-৯২% অংশই পানি এবং এতে ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম। ফলে অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়, যা ইনসুলিন কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক।
৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খনিজ উপাদান: কুমড়োতে থাকা বেটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ই এবং ম্যাগনেসিয়াম শরীরের প্রদাহ কমায় ও কোষের কার্যক্ষমতা উন্নত করে।
৪. ইনসুলিন সংবেদনশীলতা: গবেষণায় দেখা গেছে, কুমড়োতে থাকা কিছু উদ্ভিজ্জ যৌগ শরীরের ইনসুলিন তৈরির ক্ষমতা ও ইনসুলিন গ্রাহক কোষগুলোর সংবেদনশীলতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
সেবন পদ্ধতি ও সতর্কতাপরিমিত অংশ: উপকারী হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে যেকোনো কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া অনুচিত। নিয়মিত ডায়েটে হাফ-কাপ থেকে এক-কাপ সিদ্ধ বা রান্না করা কুমড়ো রাখা নিরাপদ।
রান্নার ধরন: কুমড়োতে অতিরিক্ত চিনি, গুড়, বেশি তেল বা ঘি ব্যবহার করে রান্না করলে এর গ্লাইসেমিক লোড বেড়ে যায়। সিদ্ধ, অল্প তেলে ভাজি বা হালকা মসলার তরকারি হিসেবে খাওয়া উত্তম।
কুমড়োর বীজ: ডায়াবেটিকদের জন্য কুমড়োর পাশাপাশি এর বীজও অত্যন্ত উপকারী। কুমড়োর বীজে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি ও প্রোটিন রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।
পরিমিত পরিমাণে খেলে রক্তের শর্করার মাত্রায় বড় কোনো হেরফের হয় না। তাই ডায়াবিটিস রোগীরা নিশ্চিন্তে ও পরিমিত মাত্রায় দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কুমড়ো রাখতে পারেন।